অনুমতি না নিয়ে স্বর্ণ ব্যবসায় সাকিব, বিএসইসির ব্যাখ্যা তলব

অনুমতি না নিয়ে স্বর্ণ ব্যবসায় সাকিব, বিএসইসির ব্যাখ্যা তলব

অনুমতি না নিয়ে ‘রিলায়েবল কমোডিটি এক্সচেঞ্জ কোম্পানি’ এবং ‘বুরাক কমোডিটি এক্সচেঞ্জ কোম্পানি’ নামে দুইটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্বর্ণ ব্যবসা শুরু করেছেন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। তাই সাকিব আল হাসানের এ দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ সম্পর্কিত ব্যবসা শুরু করার বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে বিএসইসি।

সম্প্রতি রিলায়েবল কমোডিটি এক্সচেঞ্জ কোম্পানি এবং বুরাক কমোডিটি এক্সচেঞ্জ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকেও অবহিত করা হয়েছে।

চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, কমোডিটি ফিউচার কন্ট্রাক্ট সংক্রান্ত বিষয়ে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯ এর ধারা ২(সিসিসি) অনুযায়ী, কমোডিটি এক্সচেঞ্জে নগদ বা অফসেট কমিশনের সঙ্গে যথাযথভাবে নিবন্ধিত। কমোডিটি পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে- কৃষি, পশুসম্পদ, মৎস্য, বনজ, খনিজ বা এনার্জি দ্রব্যাদি এবং এই জাতীয় পণ্য থেকে তৈরি বা প্রক্রিয়াজাত দ্রব্যাদি। এছাড়া কমিশন কর্তৃক সরকারি গেজেটের মাধ্যমে অবহিত করা যে কোনো পণ্য/দ্রব্যদি হতে পারে। আর সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯ এর ধারা ২(১)(৩) অনুসারে, কমোডিটি ফিউচার কন্ট্রাক্টকে নিরাপত্তা হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএসইসির একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘কমোডিটি পণ্য সংক্রান্ত ব্যবসা করতে হলে বিএসইসির অনুমতি নেওয়ার বিধান রয়েছে। সাকিব আল হাসানের প্রতিষ্ঠান স্বর্ণ ব্যবসা শুরু করলেও এ সংক্রান্ত অনুমতি নেয়নি। ফলে তাদের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের ২২ এপ্রিল রাজধানীর বনানীতে নিজের স্বর্ণ ব্যবসার শো-রুম উদ্বোধন করেন সাকিব আল হাসান। কিউরিয়াস লাইফ স্টাইলের সঙ্গে যৌথভাবে স্বর্ণ ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন তিনি। এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সবাই যাতে চাইলে স্বর্ণ কিনতে পারে, সেই উদ্যোগ নিয়েছে সাকিবের প্রতিষ্ঠান।

সাকিবের বুরাক কমোডিটি এক্সচেঞ্জ কোম্পানি ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ ডিলার হিসেবে অনুমোদন পায়। প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে ঢাকা, রংপুর ও কুমিল্লায় তিনটি অফিস দিয়ে বিদেশ থেকে সোনার বার ও অলঙ্কার আমদানি করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করেছে।