অপরাধের ধরন বদলাচ্ছে, সরকার নতুন আইনও প্রণয়ন করছে

সংগ্রহীত

অপরাধের ধরন বদলাচ্ছে, সরকার নতুন আইনও প্রণয়ন করছে

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, অপরাধের ধরন বদলের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হচ্ছে। বিশ্বায়ন হচ্ছে।

রোববার (২৭ জুন) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ আয়োজিত লেজিসলেটিভ ডেস্কবুকের খসড়া উপস্থাপন বিষয়ক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, সময় প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চাহিদা, আচার-আচরণ, দাবি-দাওয়াসহ সব বিষয়ে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন ঘটছে। বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তির বিকাশ ঘটছে, বিনিয়োগ পরিবেশ পরিবর্তন হচ্ছে, নতুন শিল্প বিপ্লব ঘটছে, কানেক্টিভিটি বাড়ছে। অপরাধের ধরন বদলে যাচ্ছে। সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হচ্ছে। বিশ্বায়ন হচ্ছে। এসবকে অ্যাড্রেস করার জন্য সরকার নতুন নতুন আইন প্রণয়ন করছে, পুরাতন আইনগুলো সংশোধন করে সময় উপযোগী করছে। সময়ের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতেই সরকার করোনার প্যান্ডেমিক পরিস্থিতিকে মোকাবিলা করার জন্য আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮-সহ বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করেছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের অন্যতম স্লোগান হচ্ছে, ‘আইনের মাধ্যমে উন্নয়ন, জনগণের ক্ষমতায়ন। ’ সরকারের এ স্লোগানকে সাফল্যমণ্ডিত করে তোলার লক্ষ্যে আইন মন্ত্রণালয় দ্রুত মানসম্পন্ন ও সময়োপযোগী আইন প্রণয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

আইনের খসড়া প্রস্তুত ও ভেটিংয়ের কাজ সহজ বিষয় নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, এক্ষেত্রে বিশেষ ধরনের নীতি ও কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। আইনের প্রত্যেকটি শব্দের অর্থ এবং গুরুত্ব আছে। তাই আইনের বাক্যে শব্দ ব্যবহার করার ব্যাপারে পদ্ধতিগত অভিজ্ঞতা এবং অনুশীলনের প্রয়োজন। লেজিসলেটিভ ভাষা, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চর্চা, বিভিন্ন লিগ্যাল সিস্টেম যেমন- কমন ল, সিভিল ল, সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও ইসলামিক লিগ্যাল সিস্টেম সম্পর্কে ধারণা থাকতে হয়। লেজিসলেটিভ ড্রাফটিং টেকনিক, টুলস, লেজিসলেটিভ ব্যাখ্যা, চুক্তি সম্পাদন পদ্ধতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকতে হয়। এ ধারণা যত বেশি গভীর ও বিস্তৃত হয় আইনের গুণগত মান ও গ্রহণযোগ্যতা তত ভালো হয়। তাই উল্লেখিত নীতি, কর্মপদ্ধতি, চুক্তি সম্পাদন পদ্ধতি ইত্যাদি সুলিখিত ও সুবিন্যস্ত আকারে হাতের কাছে থাকা প্রয়োজন। থাকলে আইনের খসড়া প্রস্তুত ও ভেটিং কার্য দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে করা যায়।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আইন প্রণয়ন কার্যক্রমকে আরো গতিশীল, পরিশীলিত ও সময়োপযোগী করার জন্য আইন মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ‘আইনি গবেষণার মাধ্যমে তারতম্যমূলক আইন ও নীতি চিহিৃতকরণপূর্বক উহা সংস্কার বিষয়ক একটি প্রকল্প’ প্রকল্পের মাধ্যমে একটি লেজিসলেটিভ ডেস্কবুক তৈরি করা হচ্ছে। এ ডেস্কবুক অনুসরণ করে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের কর্মকর্তারা সরকারের আইন, বিধিমালা, প্রবিধানমালা, প্রজ্ঞাপন, চুক্তি ইত্যাদির খসড়া প্রস্তুত এবং ভেটিং কার্য দক্ষতার সঙ্গে ও স্বল্প সময়ের মধ্যে করতে সক্ষম হবেন।

লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মো. মইনুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের যুগ্ম-সচিব ও প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দীন বক্তব্য রাখেন।

কর্মশালায় লেজিসলেটিভ ডেস্কবুকের খসড়া উপস্থাপন করেন ডেস্কবুকের খসড়া প্রস্তুতকারী টিমের টিম লিডার এ কে মোহাম্মদ হোসেন।