অবশেষে গণহত্যার দায় স্বীকার মিয়ানমারের

অবশেষে গণহত্যার দায় স্বীকার মিয়ানমারের
অবশেষে রোহিঙ্গা গণহত্যার দায় স্বীকার করে নিল মিয়ানমার। গত বছর সামরিক অভ্যুত্থানের পর গঠিত ছায়া সরকারের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। যেখানে রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত অমানবিক নির্যাতনের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ক্ষমতাচ্যুত রাজনীতিক, আইনপ্রণেতা ও জান্তাবিরোধী আন্দোলনকারীদের নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যের সরকার গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের বিচারকার্যের ওপর থেকেও আপত্তি তুলে নেওয়ার কথা জানায়।

রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনী যে নৃশংসতা চালিয়েছে তার স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে জান্তাবিরোধীদের ওপর নির্যাতন ঠেকানোর আশা করছে ছায়া সরকার। তবে তাদের এই স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে প্রভাব ফেলবে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয় বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম। তবে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে জাতিসংঘে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের কাছে আহ্বান জানিয়েছে জান্তাবিরোধী জোট।

২০১৭ সালে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাদের অত্যাচার নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি ধর্ষণ ও হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে সেনারা। এর পর মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনে ২০১৯ সালের নভেম্বরে নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের মামলা করে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া।
সে সময় আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন মিয়ানমারের তৎকালীন স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি। একই সঙ্গে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পক্ষে সাফাই গাওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাকে। তবে গেল বছর ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে কারাবন্দি রয়েছেন গণতন্ত্রপন্থি এই নেত্রী।