অবশেষে দশম সেঞ্চুরির দেখা পেলেন তামিম ইকবাল

অবশেষে দশম সেঞ্চুরির দেখা পেলেন তামিম ইকবাল

অবশেষে সেঞ্চুরির দেখা পেলেন তামিম ইকবাল। দীর্ঘ ২৬ মাস পর সাগরিকায় ঘরের মাঠে সেঞ্চুরির দেখা পেলেন তামিম। ৬৬ টেস্টের ক্যারিয়ারে এটি তামিমের দশম টেস্ট সেঞ্চুরি। টেস্টে লঙ্কানদের বিপক্ষে এটিই তামিমের প্রথম শতক।
২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নিউজিল্যান্ডের হ্যামিল্টনে টেস্টে সর্বশেষ সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন তামিম। এরপর তিনি খেলেছেন আরও ৮টি টেস্ট। তাতে ১৬ ইনিংসে ৬ বার অর্ধশতকের দেখা পেলেও সেঞ্চুরির দেখা পাচ্ছিলেন না এই ড্যাশিং ওপেনার। এ সময়ে একবার ৯০ ও আরেকবার ৯২ রান করে আউট হয়েছেন তিনি।

অবশেষে ২৬ মাস পর সেঞ্চুরির আক্ষেপ কাটল তামিমের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাগরিকায় বাংলাদেশের পক্ষে টেস্টে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ডটি দখলে নেওয়ার পর সেঞ্চুরিও তুলে নিলেন তিনি। ১৬২ বলে ১০ চারে তিনি এই ইনিংস খেলেন। টেস্টে ১১ সেঞ্চুরি নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির রেকর্ডটি অধিনায়ক মুমিনুলের। ১০ সেঞ্চুরি নিয়ে দুইয়ে তামিম।

৮৯ রানে অপরাজিত  থেকে তামিম লাঞ্চ ব্রেকে যান। তার আগে স্বপ্নের এক সেশন কাটায় বাংলাদেশ। বিরতি থেকে ফিরে সেঞ্চুরি তুলে নিতে বেশি সময় নেননি খান সাহেব। বাংলাদেশের ইনিংসের ৫২তম ওভারে আসিতার ফার্নান্দোর বলেই স্কয়ার লেগের দিকে ঠেলে দিয়েই মাইল ফলকে পৌঁছে যান তামিম।

এর আগে বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ডটিও মুশফিকের কাছ থেকে বুঝে নেন তামিম। চট্টগ্রাম টেস্ট শুরুর আগে বাংলাদেশের পক্ষে টেস্টে সবচেয়ে রানের রেকর্ডটি ছিল মুশফিকুর রহিমের। তবে তামিম ইকবালের সুযোগ ছিল চট্টগ্রামেই মুশফিককে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের পক্ষে টেস্টে সবচেয়ে বেশি রানের মালিক হওয়ার। সুযোগটি লুফে নিয়েছেন তামিম। সাগরিকায় অর্ধশতকের দেখা পাওয়ার পর টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ডের মালিকানাও বুঝে নিলেন তামিম।

টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে তামিমের সঙ্গে মিউজিক্যাল চেয়ার খেলছেন মুশফিক। একবার তামিম তো আরেকবার মুশফিক এই রেকর্ডটি নিজের দখলে নিয়ে নেন। সাকিব আল হাসান ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি রানের মালিকানা নিয়ে তামিমের সঙ্গে এক সময় লড়াই করলেও অনিয়মিত টেস্ট খেলায় এই রেকর্ডে সাকিব পিছিয়ে পড়েছেন আগেই।

চট্টগ্রাম টেস্ট শুরুর আগে বাংলাদেশের পক্ষে ৮১ টেস্টে ৪৯৩২ রান ছিল মুশফিকের। অন্যদিকে তামিম ইকবালের মোট টেস্ট রান ছিল  ৬৫ টেস্টে ৪৮৪৮। রেকর্ডটি নিজের করে নিতে তামিমের দরকার ছিল ৮৫ রান।

সাগরিকায় গতকাল দিন শেষে ৩৫ রানে অপরাজিত থাকা তামিম আজ সকালেই তুলে নেন ক্যারিয়ারের ৩২তম অর্ধশতক। তবে তামিম থামেননি সেখানেই। দেখেশুনে খেলেছেন। তবে বাজে বল পেলে সাজা দিতেও ভুল করেননি এই ড্যাশিং ওপেনার। রমেশ মেন্ডিসের ওভারে চার মেরে অর্ধশতক পূরণ করেন তামিম। তার কিছুক্ষণ পরেই বাংলাদেশের ইনিংস ছোঁয় শতরানের ঘর। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর টেস্টে শতরানের ওপেনিং পার্টনারশিপ পেল বাংলাদেশ।সর্বশেষ ২০১৭ সালে গলে এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই ওপেনিং জুটিতে ১১৮ রান তুলেছিলেন সৌম্য সরকার ও তামিম।

এরপর ৮৫ রানে পৌঁছে তামিম ছাড়িয়ে যান মুশফিককে। ৬৬ টেস্টে তামিমের সংগ্রহ ৪৯৩৬। বাংলাদেশের পক্ষে টেস্টে সবচেয়ে বেশি রান এখন তামিমের।  ৪৯৩২ রান নিয়ে দুইয়ে মুশফিক। ৫৯ টেস্টে সাকিব আল হাসানের সংগ্রহ ৪০২৯ রান। ৫০ টেস্টে ৩০২৬ রান করেছেন হাবিবুল বাশার।