অবিস্মরণীয় সিরিজ জয় দক্ষিণ আফ্রিকায়

অবিস্মরণীয় সিরিজ জয় দক্ষিণ আফ্রিকায়

সেঞ্চুরিয়নে প্রথম ম্যাচ জিতে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ইতিহাস রচনা করেছিল বাংলাদেশ। এর পর অপেক্ষা ছিল প্রথমবার সিরিজ জয়ের স্বাদ পাওয়ার। গতকাল সেটিও হয়ে গেল। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে এবার সিরিজ জয়ের মহাকাব্য লিখলেন তামিম-সাকিব-তাসকিনরা। সেঞ্চুরিয়নে শেষ ওয়ানডে ম্যাচে ৯ উইকেটে পাওয়া জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিলেন তামিম-সাকিবরা। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এটি বড় অর্জন। ম্যাচ (৫/৩৫) ও সিরিজসেরা (৮ উইকেট) হয়েছেন তাসকিন আহমেদ। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের প্রথম ম্যাচ জিতলেও দ্বিতীয় ম্যাচে হারের তেতো স্বাদ পেতে হয় বাংলাদেশকে। ১-১ সমতায় থাকা সিরিজের শেষ ম্যাচটি তাই অলিখিত ফাইনালে রূপ নেয়। মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাসকিনের আগুনে বোলিংয়ে ৩৭ ওভারে ১৫৪ রানে অলআউট হন প্রোটিয়ারা। বাংলাদেশের বিপক্ষে এটি তাদের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। জবাবে তামিমের ফিফটিতে ১৪১ বল বাকি থাকতেই ১ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। দেশের বাইরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে, কেনিয়া ও আয়ারল্যান্ডের পর এবার দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সিরিজ জিতে গেল বাংলাদেশ। যে মাটিতে উপমহাদেশের দলগুলোর মধ্যে কখনো জিততে পারেনি শ্রীলংকা। এ ছাড়া ভারত জিতেছে একবার, পাকিস্তান দুবার। সেই প্রোটিয়াদের মাটিতেই কিনা লাল-সবুজের বিজয় নিশান উড়ালেন টাইগাররা। রান তাড়ায় এ নিয়ে চতুর্থবার ৯ উইকেটে জয় পেল বাংলাদেশ। এর মধ্যে দুবার দক্ষিণ আফ্রিকা ও একবার করে কেনিয়া ও জিম্বাবুয়ে আছে।

প্রথম ম্যাচ জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন তাসকিন। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচেও তাসকিনের আগুনেই পুড়েছেন প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানরা। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার ৫ উইকেটের স্বাদ পাওয়া তাসকিন শোর শুরুটা ছিল ভেরেইনাকে দিয়ে। এর পর একে একে তুলে নেন মালান, প্রিটোরিয়াস, মিলার ও রাবাদার উইকেট। ৯ ওভারে ৩৫ রানে ৫ উইকেট পান তিনি। তবে সেঞ্চুরিয়নে এদিন উইকেট শিকারের শুরুটা করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। কুইন্টন ডি ককের ব্যাট চওড়া হওয়ার আগেই তাকে সাজঘরের পথ দেখিয়ে দেন এ স্পিনার। মাঝখানে সাকিব-শরিফুলের ঝলকে বাভুমা, ডুসেন আউট হলে খাদের কিনারায় চলে যান স্বাগতিকরা। ১২৬ রানে ৮ উইকেট হারানোর পরও তারা দেড়শ রান পায় কেশব মহারাজের ৩৯ বলে ২৮ রানের সৌজন্যে। প্রোটিয়াদের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন ওপেনার মালান।

এই সেঞ্চুরিয়নেই প্রথম ম্যাচে ৭ উইকেটে ৩১৪ রান করেছিল বাংলাদেশ। ৩৮ রানে পাওয়া জয়ে ইতিহাস রচনা করার ভেন্যুতে এবার সিরিজ জয়ের হাতছানি ছিল টাইগারদের সামনে। তাসকিনের দুর্দান্ত বোলিংয়ে প্রোটিয়াদের ১৫৪ রানে অলআউট করার পর সিরিজ জয়ের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়। তামিম-লিটনের ব্যাটে দারুণ সূচনা। উদ্বোধনী জুটিতে ২০.৫ ওভারে ১২৭ রান স্কোরকার্ডে যোগ করেন তারা। লিটন ২ রানের জন্য ফিফটি পাননি। মহারাজের বলে বাভুমার হাতে ক্যাচ দিয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরেন তিনি। তার ৫৭ বলের ইনিংসে ছিল ৮টি বাউন্ডারি। তবে তামিম ছিলেন আপন আলোয় উজ্জ্বল। ৫২ বলে ফিফটি স্পর্শ করা বাংলাদেশের অধিনায়ক শেষ পর্যন্ত ৮৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। তার ৮২ বলের ইনিংসে ছিল ১৪টি চার। অন্যদিকে পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি থাকার পরও দক্ষিণ আফ্রিকাতে দলের সঙ্গে থেকে যাওয়া সাকিব বল হাতে ২৪ রানে ২ উইকেট পাওয়ার পর ব্যাট হাতে ১৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। দ্বিতীয় উইকেটে তামিমের সঙ্গে ৩৪ বলে অবিচ্ছিন্ন ২৯ রানের জুটি গড়েন তিনি। রাবাদার করা ২৭তম ওভারের তৃতীয় বলে বাউন্ডারি মেরে দলকে জয়ের স্বাদ পাইয়ে দেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ছয়বার সিরিজ খেলে দুবার জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে দেশের মাটিতে প্রোটিয়াদের তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিলেন টাইগাররা। এবার দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে তিন ম্যাচের সিরিজে তাদের ২-১ ব্যবধানে হারাল। ১৮ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশে এটি চতুর্থ জয়; দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দ্বিতীয়। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে সময়টা ভালো যাচ্ছে বাংলাদেশের। করোনা মহামারীর ধাক্কা সামলে ক্রিকেটে ফেরার পর দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩-০ তে সিরিজ জিতেছিলেন লাল-সবুজরা। এর পর শ্রীলংকার বিপক্ষে ২-১, জিম্বাবুয়ে সফরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩-০, আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয়ের পর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ২-