অ্যান্টার্কটিকায় তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড, বরফ গলছে দ্রুত

সংগ্রহীত

অ্যান্টার্কটিকায় তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড, বরফ গলছে দ্রুত
পরিবেশ দূষণের কারণে জলবায়ুর পরিবর্তন ভয়াবহ পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। পৃথিবীর শীতলতম দুই মেরু অঞ্চলের বরফ আশঙ্কাজনক হারে গলে যাচ্ছে। অথচ পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর অ্যান্টার্কটিকা আর আর্কটিক অঞ্চলই জলবায়ু স্বাভাবিক রাখতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে। বরফে আবৃত এই স্থানগুলো নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ের নানা গবেষণা দিচ্ছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
অ্যান্টার্কটিকার নতুন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে। ওয়ার্ল্ড মেটেওরোলোজিক্যাল সংস্থা ডব্লিউএমও এ তাপমাত্রার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ২০১৫ সালের ২৪ মার্চ একই আবহাওয়া অফিস থেকে অ্যান্টার্কটিকার তাপমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে সেটিই ছিল সর্বোচ্চ।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে আর্জেন্টিার এস্পেরানজা গবেষণা সংস্থা এই তথ্য দিয়েছে। একই প্রতিনিধিদল ২০২০ সালে অ্যান্টার্কটিকার মূল ভূখণ্ড থেকে একটু দূরে সিমওর দ্বীপে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে। বরফে আচ্ছাদিত কোনো অঞ্চলই সরাসরি সূর্যালোক থেকে রক্ষা করার কোনো উদ্যোগ নেই কোনো সংস্থার। অ্যান্টার্কটিকার মূল ভূখণ্ডের তাপমাত্রাও আশঙ্কাজনকজ হারে বাড়ছে।
গত ৫০ বছরে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে এখানকার তাপমাত্রা। ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভে বলছে, এখন পর্যন্ত ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়নি এ অঞ্চলের তাপমাত্রা, কিন্তু খুব শিগগিরই তা হয়ে যাবে। ডব্লিউএমওর গবেষণা বলছে, এই মহাদেশের তাপমাত্রা আগামী এক দশকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে যাবে। এর আগে ১৯৮২ সালে অ্যান্টার্কটিকার সিগনি দ্বীপে সর্বোচ্চ ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
১ কোটি ৪০ লাখ স্কয়ার কিলোমিটারজুড়ে অবস্থিত পৃথিবীর সবচেয়ে শীতলতম স্থান অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ। এ আয়তন অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের দ্বিগুণ। ২ কোটি ৬৫ লাখ কিউবিক কিলোমিটার বরফ আছে এই মহাদেশের। মাইনাস ১০ থেকে মাইনাস ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত থাকে এখানকার বিভিন্ন অঞ্চলের তাপমাত্রা। স্যাটেলাইট থেকে অ্যান্টার্কটিকার কোথাও কোথাও মাইনাস ৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি তাপমাত্রাও পাওয়া গেছে। ১৯৮৩ সালে রাশিয়ার ভসটক স্টেশন অ্যান্টার্কটিকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করে মাইনাস ৮৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, পৃথিবীর তাপমাত্রা ১৯ শতকের পর থেকে গড়ে ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে বেড়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে বেড়েছে খরা, সমুদ্রের ঢেউ শক্তিশালী হয়েছে। ঝড় তৈরি হয়েছে। কিন্তু অ্যান্টার্কটিকার বায়ুর উষ্ণতা এর দ্বিগুণ হারে বেড়েছে বলে জানাচ্ছেন তারা। তাদের আশঙ্কা, এই অংশে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস গড় উষ্ণতা বাড়ার কারণে পশ্চিম অ্যান্টার্কটিক ও গ্রিনল্যান্ডে যে পরিমাণ বরফ গলবে, তাতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়তে পারে অনেকটাই। তাতে বিপদ আরও বাড়বে। প্লাবিত হবে সমুদ্র তীরবর্তী অনেক অঞ্চল।