আওয়ামী লীগ নেতার, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এলাকা ছাড়া করার নির্দেশ

আওয়ামী লীগ নেতার, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এলাকা ছাড়া করার নির্দেশ

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও শোল্লা ইউনিয়ন পরিষদের নৌকার প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান ভূঁইয়া কিসমত উপজেলার যত স্বতন্ত্র-বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন তাদের যেকোনো মূল্যে এলাকা ছাড়া করার নির্দেশে দিয়েছেন।

গতকাল শনিবার রাতে উপজেলার কৈলাইল ইউনিয়নের মেলেং মাঠে নৌকার প্রার্থী বশির আহমেদের সমর্থনে অনুষ্ঠিত এক জনসভার ভাষণে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাদের এ আদেশ দেন তিনি।

বিদ্রোহী প্রার্থীদের উদ্দেশ্য করে মো. মিজানুর রহমান ভূঁইয়া কিসমত বলেন, ‘আজকে রাতের মধ্যে আপনারা যেখানে থাকেন দয়া করে দলের স্বার্থে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের এমপি মহোদয়ের স্বার্থে আজকের মধ্যেই নিজেদের প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করেন। না হলে অন্য নেতাদের মতো আমিও একই সুরে বলতে চাই- কৈলাইল ইউনিয়ন যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ আপনাদের দায়িত্ব রইল তাদের এলাকা ছাড়া করে দেওয়াও। তারা কৈলাইলে থাকতে পারবে না। যেকোনো মূল্যে তাদের কৈলাইল থেকে তাড়াতে হবে। উপজেলায় অন্য যারা (বিদ্রোহী) আছেন তাদের বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা নেবেন।’

এ ঘোষণার পর থেকে উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নে কোনো বিদ্রোহী প্রার্থীকে প্রচারণায় দেখা যায়নি। অনেকে তাদের ঘরবাড়িতে আক্রমণ ও ভাঙচুরের অভিযোগ করেছেন।

কৈলাইল ইউনিয়নের বিদ্রোহী প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেন, ‘তাকে প্রচারণায় নামতে দেওয়া হচ্ছে না। তার নির্বাচনী ক্যাম্পের পোস্টার ছিড়ে ফেলা হয়েছে।’

আরেক প্রার্থী পান্নু মিয়ার পরিবারের লোকজন বলেছেন, ‘নৌকার প্রার্থীর লোকজন সকালে তাদের বাড়িতে দলবল নিয়ে হামলা চালিয়েছে। তাদের বাড়ি থেকে বের হতে দিচ্ছে না। তাদের সন্তানদের স্কুল থেকে তুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে সন্ত্রাসীরা।’

একই অভিযোগ আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী হুমায়ন কবিরের কর্মী সমর্থকদের। শিকারী পাড়া ইউনিয়নের বিদ্রোহী প্রার্থী আইযুব মোল্লার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে নৌকার প্রার্থী আলীমুর রহমান খান পিয়ারর ছেলে তানভিরের বিরুদ্ধে।

এ ব্যাপারে হুমকিদাতা মোশাররফ হোসেন কিসমতের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, ‘এ নিয়ে এখনো পর্যন্ত  আমরা কোনো লিখিতি অভিযোগ পাইনি। আর কৈলাইল ইউনিয়নটি আমার আওতার বাইরে হওয়ায় এখানে আমার কোনো হাত নেই। যেহেতু উপজেলার সামগ্রিক বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে, তাই অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’