আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়া হবে: মেয়র আতিকুল

সংগ্রহীত

আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়া হবে: মেয়র আতিকুল

মহাখালী সাততলা বস্তিতে আগুনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও ঘর তৈরির টিন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম।

সোমবার (৭ জুন) দুপুরে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত সাততলা বস্তি পরিদর্শনে এসে তিনি এ কথা বলেন।

মেয়র আতিকুল বলেন, বস্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে নগদ ৫ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা এবং ঘর তৈরির জন্য টিন দেওয়া হবে। এছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি পরিবারকে তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে শুকনা খাবার দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও অন্যান্যদের সঙ্গে কথা হয়। আগুন নির্বাপণের পর আমাদের করণীয় কী? এখানে দাঁড়িয়ে থাকলে তা সম্ভব নয়। কীভাবে আমাদের এখন ধাপে ধাপে কাজগুলো করতে হবে সেটিই এখন আমাদের দায়িত্ব। উত্তরা একটি খালের কাজ চলছিল এবং অনেক জটলা ছিল এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সাততলা বস্তিতে আসতে দেরি হয়েছে। তবে সার্বক্ষণিক দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি পুড়ে যাওয়া বস্তিবাসীদের সঙ্গে কথা বলেছি। আপাতত ঘরের জন্য টিন দিতে হবে এবং এই মুহুর্তে খাবার লাগবে। ইতোমধ্যে কাউন্সিলর খাবার রান্নার কাজ শুরু করেছেন। প্রতিটি পরিবারের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আজ দুপুর থেকে খাবার চালু হবে এবং রাতেও বস্তিবাসীদের খাওয়ানো হবে। যতক্ষণ ত্রাণ না এসে পৌঁছাবে ততক্ষণ খাবার বিতরণ করব। এছাড়াও শুকনা খাবার প্যাকেট বিতরণ করা হবে। বস্তিবাসীদের একটি মানুষও অভুক্ত থাকবে না বলেও উল্লেখ করেন মেয়র আতিকুল ইসলাম।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, কড়াইল বস্তিতে বহুতলা ভবন নির্মাণ করে সেখানকার বস্তিবাসীদের থাকার উপযোগী করা হবে। ক্রমান্বয়ে রাজধানীর সব বস্তিতে এইভাবে ভবন নির্মাণ করা হবে। এছাড়া আগুনসহ অন্যান্য দূর্যোগ থেকে বস্তিবাসীদের স্থায়ীভাবে বাঁচানো যাবেনা। বস্তির বাসিন্দারা এখনো ভাড়া দিয়ে থাকে, তারা যদি একই টাকায় একটি বহুতলা বাসার ফ্ল্যাটে থাকতে পারে তাহলে তাদের জীবনমানও আরো উন্নত হবে। বস্তিবাসী আমাদের এই শহরের অবিচ্ছিদ্য অংশ।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনিও নির্দেশনা দিয়েছেন। আগামী বুধবার আমি আইসিটি মন্ত্রণালয়সহ তিনটি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসবো। ভবনগুলো কেমন হবে, পরিবেশ কেমন হবে, এসব নিয়ে কথা বলবো। আশা করছি শিগগিরই একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।

বস্তিবাসীদের স্থানান্তরের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মিরপুরের রূপনগরের বস্তিবাসীদের বাউনিয়াবাঁধ প্রজেক্টে স্থনন্তের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এছাড়াও সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নকর্মীরা বস্তিতে থাকেন। তাদের নতুন একটি প্রজেক্টে নেওয়া হবে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, রূপনগর বস্তিতে ৭৮০টি পরিবার রয়েছে। তাদেরও ক্রমান্বয়ে নেওয়া হবে। এছাড়া গাবতলীতে বহুতলা ভবন নির্মানের কাজ চলছে।