আবারও আফগানিস্তানে তালিবান শাসন

সংগ্রহীত

আবারও আফগানিস্তানে তালিবান শাসন

সরকারি বাহিনীকে টেক্কা দিয়ে আফগানিস্তানের প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা দখল করে নিজেদের দখলকৃত অঞ্চলগুলোতে শরিয়াহ শাসন চালু করেছে গোষ্ঠীটি।

উত্তরপূর্ব প্রদেশে দখল করা অঞ্চলগুলোতে বৃহস্পতিবার থেকে নতুন আইন চালু করেছে তালেবান। ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক এ আইনের ধারা অনুযায়ী বিয়ের দেনমোহর ও যৌতুক সংক্রান্ত বিধিনিষেধও জারি করা হয়েছে। এই বিধিবিধান জারির ক্ষেত্রে ৯০ দশকের শরিয়াহ শাসনের দিকেই প্রত্যাবর্তন করল তালেবান।

এর আগে ডেইলি টাইমসের এক খবরে বলা হয়েছিল, গত সপ্তাহে খালিফা নামে পরিচিত প্রভাবশালী তালেবান নেতা সিরাজউদ্দিন হাক্কানি দখলকৃত জেলাগুলোতে তাদের নিজস্ব আইন চালুর তাগিদ দেন। টাইমস অব ইন্ডিয়া।
গত সপ্তাহ থেকেই অধিকৃত অঞ্চলগুলোতে পাথর ছুড়ে মৃত্যুদণ্ড, চুরির দায়ে হাত কর্তন, নারীদের একা ঘর থেকে বের হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা এবং পুরুষদের বাধ্যতামূলক দাড়ি রাখার বিধান চালু করেছে তালেবানরা।

চলতি মাসের শুরুতেই তালেবানরা আফগানিস্তানের ৩৫টি প্রদেশের ৪২১টি জেলার মধ্যে ১৫০টির মতো জেলা দখলে নিয়েছে। আরও শতাধিক জেলায় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের যুদ্ধ চলছে এবং ধারণা করা হচ্ছে শিগগিরই ওই জেলাগুলোও আয়ত্তে আনতে সমর্থ হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার তারা সর্বশেষ কাপিসা প্রদেশের তাগাব জেলা দখল করে নিয়েছে। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তালেবান অধ্যুষিত জেলাগুলোর অধিবাসীরা। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের তাখার জেলার সিভিল সোসাইটি কর্মী মেরাজউদ্দিন শরীফ বলেন, ‘তালেবানদের মূল সমস্যা শুধু শরিয়াহভিত্তিক আইনই নয়, তারা আসলে বিনা-প্রমাণে বিচার কাজ চালায়।’

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা আগেই সতর্ক করে দিয়ে বলেছিল, মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট প্রত্যাহারের পর আফগান নারীদের অধিকার হুমকির মুখে পড়বে।

এই কয়বছরে তাদের যতটুকু অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তালেবানরা পুনরায় ক্ষমতায় এলে ঠিক ততটুকুই পেছনে পড়বেন তারা। মূলত সেদিকেই এগোচ্ছে দেশটি।