আর মাত্র ৬ গোল, রোনালদোকে ডাকছে ইতিহাস

সংগ্রহীত

আর মাত্র ৬ গোল, রোনালদোকে ডাকছে ইতিহাস

রেকর্ডের ‘বরপুত্র’ বলা হয় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। সিআর সেভেন মাঠে নামেনই যেন ফুটবলের রেকর্ড বইটা ওলটপালট করতে। এবার তাঁর সামনে কিংবদন্তী আলি দাইয়েকে পেছনে ফেলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ডটি নিজের করে নেওয়ার হাতছানি।

আগামী ১১ জুন মাঠে গড়াবে ইউরোর এবারের আসর। হাঙ্গেরির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ২০১৬ সালে ফ্রান্সকে হারিয়ে শিরোপা জেতা পর্তুগালের মুকুট ধরে রাখার মিশন। ‘ই’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ জার্মানি ও ফ্রান্স।

গত সেপ্টেম্বরে জাতীয় দলের জার্সিতে ‘গোলের সেঞ্চুরি’ পূরণ করেন রোনালদো। পর্তুগালের হয়ে বর্তমানে তার গোলসংখ্যা ১০৩টি। আর ৬টি হলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইরানের আলি দাইয়ের গড়া ১০৯ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করবে তিনি।

রেকর্ডটি নিয়ে মাঝেমধ্যে একটু-আধটু কথা বলেছেন রোনালদো। ২০১৯ সালে যেমন বলেছিলেন রেকর্ডটি নিজের করে নেওয়ার আগ্রহের কথা, “সব রেকর্ডই তৈরি হয় ভাঙার জন্য এবং এই রেকর্ড আমি ভাঙব।”

লক্ষ্য পূরণে ইউরোর বাছাই বেশ কাজে লাগিয়েছিলেন রোনালদো। আট ম্যাচে করেছিলেন ১১ গোল। এর মধ্যে সাতটি গোল ‘ছোট দল’ লিথুয়ানিয়ার বিপক্ষে। প্রথম লেগে চার গোল করার পর দ্বিতীয় লেগে দলটির বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে সুদীর্ঘ পথচলায় অবশ্য অন্যান্য টুর্নামেন্টেও আলো ছড়িয়েছেন রোনালদো। ২০১৮ বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিক উপহার দিয়েছিলেন তিনি। ২০১৬ সালে ইউরোর সেমি-ফাইনালে ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচেও ‘ডেডলক’ ভেঙেছিলেন তিনি।

এ পর্যন্ত খেলা আটটি শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিযোগিতার সবগুলোতেই গোল করেছেন রোনালদো। এবারের ইউরোয় শুরুর দিকেই বড় দলের বিপক্ষে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছেন তিনি; গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ দুই ম্যাচে জার্মানি ও ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে পর্তুগাল।

ইউরোর গত আসরে পর্তুগালের নির্ভরতার প্রতীক ছিলেন রোনালদো। চোটের কারণে ফাইনালের পুরোটা খেলতে পারেননি। কাঁদতে কাঁদতে ছেড়েছিলেন মাঠ। চিকিৎসা নিয়ে দ্রুতই ফিরেছিলেন ডাগআউটে। কোচ ফার্নান্দো সান্তোসের চেয়ে ডাগআউটে বেশি ব্যস্ত ছিলেন তিনি। সতীর্থদের উজ্জীবিত রাখতে তার প্রচেষ্টা, মরিয়া ভাব ছুঁয়ে গিয়েছিল ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়। সাফল্যের প্রতি রোনালদোর ক্ষুধাটা দেখেছিল সবাই।

২০১৬ সালে পর্তুগালকে প্রথম বড় কোনো শিরোপা এনে দেওয়ার সময়ের তুলনায় এবার রোনালদোর ওপর দায়িত্বের গুরুভার কম হওয়াই উচিত। সেবার রিকার্ডো কারেসমা এবং এডেরকে নিয়ে আক্রমণভাগে সবকিছু সামাল দিতে হয়েছিল তাকে। এবার রোনালদোর সঙ্গে পর্তুগাল দলে আছেন বিশ্বমানের ফরোয়ার্ড জোয়াও ফেলিক্স, দিয়োগো জটা, ব্রুনো ফার্নান্দেস ও আন্দ্রে সিলভা। তাদের সম্মিলিত উপস্থিতি পর্তুগালকে শক্তিশালী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। ফলে রোনালদোর জন্য কাজটা আরও সহজ হবে।