আল-আকসায় হামলা, ইসরাইল-ফিলিস্তিনি বড় ধরনের সংঘর্ষের আশংকা

আল-আকসায় হামলা, ইসরাইল-ফিলিস্তিনি বড় ধরনের সংঘর্ষের আশংকা
পূর্ব জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে শুক্রবার ১৫ এপ্রিল ইসরায়েলি পুলিশ ও ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় পুলিশের হামলায় ১৫২ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। এ ছাড়া কয়েক শ ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন ইসরায়েলি উগ্রবাদীরা।

গত রমজানের মত এ রমজানেও বড় ইসরাইল ফিলিস্তিন সংর্ঘষের আশংকা করা হচ্ছে। মূলত নতুন করে উত্তেজনার সূত্রপাত ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের এক ঘোষণার মধ্য দিয়ে। ওই ঘোষণায় বসতি স্থাপনকারীরা ১৫ এপ্রিল (শুক্রবার) আল-আকসা প্রাঙ্গণে তাদের বার্ষিক বড় উৎসব ‘প্যাসওভার’ উদ্যাপনের কথা বলে। এই ঘোষণাকে অনেক ফিলিস্তিনি পবিত্র এ স্থানটির সংবেদনশীল পরিবেশ উসকে দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখেন।

জেরুজালেমভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাসের আল-হিদমি বলেন, আল-আকসা প্রাঙ্গণে ইহুদিদের এমন উৎসব উদ্যাপন সেই প্রাচীন আমল থেকে এখন পর্যন্ত হয়নি। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেতের দপ্তর জানিয়েছিল, আল-আকসা প্রাঙ্গণে এ উৎসব উদ্যাপন করা হবে না।মসজিদুল আকসা বা বায়তুল মুকাদ্দাস সারা বিশ্বের মুসলিমদের কাছে তৃতীয় পবিত্রতম স্থান। আর ইহুদিদের কাছে এটি খ্যাত টেম্পল মাউন্ট নামে। তারাও এটিকে তাদের অন্যতম পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচনা করে থাকে।

শুক্রবারের সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে ইসরায়েলি পুলিশের দাবি, আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে পাথর ছুড়ছিলেন একদল বিক্ষোভকারী। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতেই সেখানে প্রবেশ করে তারা। আটক করা হয় ৩০০ জনকে। তবে ফিলিস্তিনি সূত্র বলছে, ৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর রাবার বুলেট ছুড়েছেন। বিক্ষোভকারীরাও ইসরায়েলি বাহিনীকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়েন।

আহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগকেই হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট বলেছে, আল-আকসার একজন নিরাপত্তাপ্রহরীর চোখে গুলি করা হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী মসজিদ প্রাঙ্গণে অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসাকর্মীদের ঢুকতেও বাধা দিয়েছে। এতে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধারে সমস্যা হয়।

ইসরায়েলি পুলিশের ভাষ্য, শুক্রবার ফজরের নামাজ শেষে ফিলিস্তিনিদের ‘সহিংস’ ভিড় ঠেকাতে তারা মসজিদ প্রাঙ্গণে ঢুকে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

তবে প্রত্যক্ষদর্শী এক ফিলিস্তিনি আলোকচিত্রী বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী নির্মমভাবে অভিযান চালিয়ে মসজিদ প্রাঙ্গণ খালি করে দেয়। মসজিদের কর্মী, সাধারণ মানুষ, যুবক, এমনকি প্রবীণদের ওপর হামলা চালায় তারা। ছোড়ে রাবার বুলেট। করে মারধর। এতে অনেকে আহত হন। এমনকি চিকিৎসকদেরও ছাড়েনি পুলিশ।

অন্যদিকে গত জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ৩৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এমনটাই জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার জেনিনে দুজন নিহত হন। সে সময় ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের তেল আবিব ও বেনি বারেক শহরের কাছে হামলা চালান। আগের দিন বুধবার পশ্চিম তীরে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর ও একজন আইনজীবীকে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী।

সংঘর্ষ শুরুর আভাস আসছে পিআইজের দিক থেকেও। গত ১০ এপ্রিল এই গ্রুপের এক মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দেন, যদি ইসরায়েলি বাহিনী জেনিনের শরণার্থীশিবিরে আক্রমণ অব্যাহত রাখে তবে খুব শিগগরিই তাঁদের দিক থেকেও চূড়ান্ত জবাব আসবে।

গাজার শাসনক্ষমতায় থাকা ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে আবার লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, যদি ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা আল-আকসা মসজিদ নিয়ে তাঁদের অসহিষ্ণু আচরণ দেখিয়ে যেতে থাকেন তবে হামাস বসে থাকবে না।

ইতিমধ্যে, পশ্চিম তীরে ও আল-আকসা মসজিদের ভেতরে ইসরায়েলি বাহিনী যাতে ঢুকতে না পারে সে ব্যাপারে বৃহস্পতিবার ফিলিস্তিনিদের ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছে হামাস।