ইউনাইটেডেই ফিরলেন রোনালদো

ইউনাইটেডেই ফিরলেন রোনালদো

অবশেষে সব নাটকীয়তার অবসান ঘটল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে এক পোস্টের মাধ্যমে পর্তুগিজ তারকা রোনালদোকে স্বাগতম জানাল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

৩৬ বছর বয়সী রোনালদোকে ১২.৮ মিলিয়ন পাউন্ড দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ম্যানইউ। পর্তুগিজ অধিনায়ক তাতে সায়ও জানিয়েছেন। এখন শুধু চুক্তির ছোটখাটো কিছু বিষয়, ভিসা এবং মেডিক্যাল পরীক্ষা বাকি। এরপর আসবে আনুষ্ঠানিক চুক্তির ঘোষণা।  তার মেডিক্যাল হবে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে।

এর আগে ম্যানসিটির কাছ থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর জুভেন্টাসকে না বলে দেন রোনালদো। তিনি ভেবেছিলেন নিজের সাবেক ক্লাবের পক্ষ থেকে কোনো প্রস্তাব আসবে না। কিন্তু দৃশ্যপট থেকে সিটি বিদায় নিতেই ইউনাইটেড সেই পথ তৈরি করে দেয়। ফলে চলতি দলবদলের বাজারে এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো স্ট্রাইকার খুঁজে পেতে ব্যর্থ হলো সিটিজেনরা। এর আগে টটেনহ্যাম থেকে হ্যারি কেইনকে কেনার প্রস্তুতি সেরে ফেলেছিল তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজের বর্তমান ক্লাবেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ইংলিশ অধিনায়ক।

মূলত রোনালদোর জন্য ওল্ড ট্রাফোর্ডের দরজা খুলে যায়, যখন ম্যানইউ কোচ ওলে গানার সুলশার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘সে (রোনালদো) জানে আমরা ওর জন্য এখানে আছি। ‘ তিনি জানিয়ে দেন, দলের পর্তুগিজ মিডফিল্ডার ব্রুনো ফার্নান্দেস তার স্বদেশী রোনালদোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই ম্যানইউয়ের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসে, দুই পক্ষ চুক্তি স্বাক্ষরে একমত হয়েছে। অর্থাৎ দুই মৌসুম পর জুভদের কাছ থেকে চলে যাওয়া নিশ্চিত হয়ে যায় তার।

এর আগে গত বুধবার জুভেন্টাস জানিয়ে দেয়, রোনালদোকে ছেড়ে দেবে তারা, কিন্তু তাদের শর্ত পূরণ করে তারপর যেতে হবে। এরপর তুরিনের বুড়িদের কোচ মাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রি স্বীকার করে নেন, রোনালদো আর তাদের হয়ে খেলতে চান না। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, দলের অনুশীলন থেকে আগেভাগেই চলে যান পর্তুগিজ উইঙ্গার এবং যাওয়ার আগে সতীর্থদের কাছ থেকে বিদায়ও নেন তিনি। পরে ব্যক্তিগত বিমানে লিসবনে নিজের বাড়িতে যান তিনি। লিসবনে নামতেই সাংবাদিকরা তাকে ঘিরে ধরে জানতে চান, তার পরের ঠিকানা কোথায়? জবাবে তিনি বলেন, ‘এক ঘণ্টার মধ্যে জানতে পারবেন। ‘ এর কিছুক্ষণ পর আসে ইউনাইটেডের ঘোষণা।

২০০৯ সালে রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার আগে ম্যানইউর জার্সিতে ২৯২ ম্যাচে ১১৮ গোল করেছিলেন রোনালদো। কিংবদন্তি কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসনের অধীনে জিতেছিলেন ৩টি প্রিমিয়ার লিগ, একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ, দুটি লিগ কাপ এবং একটি এফএ কাপের পাশাপাশি একটি করে ক্লাব বিশ্বকাপ ও কমিউনিটি শিল্ডের শিরোপা।