ইউপি নির্বাচনে সংঘাত-সহিংসতা, প্রানহানি ৮৪

ইউপি নির্বাচনে সংঘাত-সহিংসতা, প্রানহানি ৮৪

আগামী ২৬ ডিসেম্বর চতুর্থ ও ৫ জানুয়ারি পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচনে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) চিঠি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
এদিকে নির্বাচনী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। প্রতিদিনই সংঘাত-সহিংসতা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। ইউপি নির্বাচনে এ পর্যন্ত ৮৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, ইউপি ভোট নিয়ে নির্বাচন কমিশন দিশাহারা হয়েছে। নির্বাচনী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে ইসি। প্রশাসন তাদের কথা শুনছে না। ইউপি ভোটে প্রথম থেকেই ইসি কঠোর হলে সংঘাত-সহিংসতা কম হতো। সদ্য সমাপ্ত তিন ধাপের নির্বাচনে জাল ভোট, ব্যালট পেপার ছিনতাই, বোমা হামলা ও গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে। অন্যান্য ধাপের নির্বাচন নিয়ে প্রতিদিনই সংঘর্ষ হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। ভাঙচুর চলছে বাড়িঘরে, নির্বাচনী ক্যাম্পে। হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের।

পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছেন আওয়ামী লীগ ও দলের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। মেম্বার প্রার্থীরাও নিজ নিজ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে সংঘাত করছেন। তাই ভোট নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ ছাড়া বিনা ভোটে নির্বাচিতের সংখ্যাও নির্বাচনী রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। পাঁচ ধাপে ৩৭৪৪ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১৫৫৫ জন জনপ্রতিনিধি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। প্রথম ধাপের ১৪১ জন, দ্বিতীয় ধাপে দ্বিতীয় ধাপে ৩৫৭ জন, তৃতীয় ধাপে ৫৬৯ জন, চতুর্থ ধাপে ২৯৫ জন ও পঞ্চম ধাপে ১৯৩ জন বিনা ভোটে নির্বাচিত হন। সব মিলিয়ে ইউপি ভোট নিয়ে কঠোর সমালোচনার মুখে রয়েছে ইসি।

এ বিষয়ে নির্বাচন বিশ্লেষক ও সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচন কমিশন আসলে নির্বাসনে রয়েছে। তারা দিশাহারা হয়েছে। সঠিকভাবে ইসি দায়িত্ব পালন করছে না। ইসি যদি সংঘাত-সহিংসতার বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিত তবে সংঘাত কম হতো।

তিনি বলেন, ইসির কঠোর অবস্থানের পরও যদি প্রার্থীরা সংঘাত-সহিংসতা করতেন, তবে কমিশন নির্বাচন স্থগিত করে দিত। সংঘাতকারী প্রার্থীদের প্রার্থিতা বাতিল করত। এ ছাড়া সংঘাত-সংঘর্ষের বিষয়ে তদন্ত করে নির্বাচনী ফলাফল বাতিল করত। ইসির এসব বিষয় করার ক্ষমতা রয়েছে। ইসি তাদের ক্ষমতা ব্যবহার করলেই নির্বাচনী সংঘাত কমে যেত। আসলে সবকিছুর মূল কারণ হচ্ছে রাজনীতির ব্যবসায়ীকরণ। প্রার্র্থীরা টাকা দিয়ে মনোনয়ন কিনছেন। তাই তারা সংঘাত-সহিংসতা করে বিজয়ী হতে চান।

গতকাল চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। বৈঠক শেষে তিনি বলেছেন, এ নির্বাচন কমিশনের আয়ুষ্কাল আর মাত্র ৫৫ দিন। এর আগে তারা তাদের দায়িত্ব সুসম্পন্ন করতে চান। তিনি বলেন, ‘বাংলায় প্রবাদ আছে, যার শেষ ভালো, তার সব ভালো। কাজেই এই শেষ ভালোটাকে আমরা সব ভালোর মধ্যে নিয়ে আসতে চাই। ’

ইসি জানিয়েছে, সারা দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে ৪ হাজার ৫৭৮টি। আগামী ৩১ জানুয়ারি ষষ্ঠ ধাপের ২১৯টিসহ এ পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৯৯২টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আয়োজন করল তারা।

অন্যদিকে আসন্ন চতুর্থ ও পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) চিঠি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সম্প্রতি দেশের সব ডিসিকে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, ‘আসন্ন চতুর্থ ও পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটদানে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জাতিকে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের কার্যকর ভূমিকা পালন ও প্রতিটি উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, প্রার্থী, সুশীল সমাজের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করে আচরণবিধি প্রতিপালনে সবাইকে উদ্বুদ্ধকরণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। ’

এদিকে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে নৌকার কর্মী রাজু আহমেদ (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

বৃহস্পতিবার বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীর দিনে তিনি ও তার বড় ভাই আমজাদ হোসেন ছুরিকাহত হন। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন জায়গায় হানাহানি, সহিংসতা, ভাঙচুর ও মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে।