ইউপি নির্বাচন: গুলি- হামলা, প্রার্থীসহ নিহত ৪

ইউপি নির্বাচন: গুলি- হামলা, প্রার্থীসহ নিহত ৪

শুরু থেকেই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা, হামলা, মামলা লেগেই চলেছে। এদিকে চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের ফল ঘোষণার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও সহিংসতা থামছে না। গতকাল মঙ্গলবার ও আগের দিন সোমবার রাতে সংঘর্ষ, হামলা ও গুলিতে আরো চারজন নিহত হয়েছেন।

এর মধ্যে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে দুই পরাজিত মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহত হন।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বিজয়ী ইউপি সদস্য ও যুবলীগ নেতা ফিরোজ কবীর ও তাঁর সমর্থকদের হামলায় পরাজিত ইউপি সদস্য নিহত হন। পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুরে পরাজিত দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে গুলিতে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের গুণবতী ইউনিয়নে পরাজিত নৌকার প্রার্থীর এক সমর্থককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ নিয়ে চলমান ইউপি নির্বাচন ঘিরে সহিংসতায় ৮৯ জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে দুজন চেয়ারম্যান মনোনয়নপ্রত্যাশী, একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী, দুজন সদস্য প্রার্থী, একজন নির্বাচিত সদস্য ও একজন পরাজিত সদস্য প্রার্থী।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের ইউপি নির্বাচনে ভোটের আগে ও পরে সহিংসতায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। চার ধাপের নির্বাচনে ভোটের দিন সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছে মোট ২৪ জন। অথচ ভোটের আগে ও পরে প্রাণ হারিয়েছে ৬৫ জন। সর্বশেষ চতুর্থ ধাপের নির্বাচনে ভোট চলাকালে প্রাণহানির সংবাদ না আসায় নির্বাচন কমিশন সচিব এই নির্বাচন আনন্দমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করেন। এর পরেই ওই রাতে তিনজন নিহত হওয়ার খবর আসে। ভোটের রাত থেকে গতকাল পর্যন্ত আরো ৯ জন নিহত হয়েছেন।

এর আগে তৃতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচন কমিশন দাবি করে, সহিংসতামুক্ত মডেল নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু ভোট শেষে রাতেই বিজিবি সদস্যসহ ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার গতকাল বলেন, এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সহিংসতা হচ্ছে মূলত ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে। ভোটগ্রহণের অনেক আগে থেকেই যেকোনোভাবে জয়ী হওয়ার চেষ্টা নির্বাচনপূর্ব সহিংসতা বাড়াচ্ছে। আবার ভোটের পরেও এক পক্ষ অন্য পক্ষকে এলাকাছাড়া করতে মরিয়া। ফলে এই সহিংসতা কেবল ভোটের দিনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। এ অবস্থা কোনোভাবেই ইতিবাচক নয়।