ইউরোপে সবচেয়ে বড় যুদ্ধের পরিকল্পনা করছে রাশিয়া : বরিস জনসন

ইউরোপে সবচেয়ে বড় যুদ্ধের পরিকল্পনা করছে রাশিয়া : বরিস জনসন

রোববার (২০ ফেব্রুয়ারি)  এক সাক্ষাৎকারে বরিস এ মন্তব্য করেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

ইউক্রেন সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরেই প্রায় এক লাখ সেনাসদস্য মোতায়েন রেখেছে প্রতিবেশী রাশিয়া। এর মধ্যে ট্যাঙ্ক ও কামানসহ যুদ্ধবিমানের বহরও ইউক্রেন সীমান্তে পাঠিয়েছে দেশটি। যেকোনো মুহূর্তে রুশ সেনারা দেশটিতে আক্রমণ করতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। যদিও ইউক্রেনে হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে বরাবরই দাবি করে আসছে মস্কো।

বরিস জনসন বলেন, ১৯৪৫ সালের পর থেকে ইউরোপে সবচেয়ে বড় যুদ্ধের পরিকল্পনা করছে রাশিয়া। এই যুদ্ধের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে বলেও সবদিক থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভকে ঘিরে ফেলতে একটি আক্রমণ শুরু করতে চায় রাশিয়া।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ১ লাখ ৬৯ হাজার থেকে ১ লাখ ৯০ হাজারের মতো সেনা ইউক্রেন সীমান্তে মোতায়েন রেখেছে রাশিয়া। রাশিয়া এবং বেলারুশ উভয় সীমান্তেই এসব সেনা অবস্থান করছে। একইসঙ্গে এই পরিসংখ্যানের মধ্যে পূর্ব ইউরোপের রুশপন্থি বিদ্রোহীদের সংখ্যাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই বলছে যে, যেকোনো মুহূর্তে ইউক্রেনে হামলা করে বসতে পারে রাশিয়া। একই আশঙ্কা প্রকাশ করছে ওয়াশিংটনের অন্যান্য মিত্র দেশগুলোও। এই পরিস্থিতিতে গত মঙ্গলবার রাশিয়া জানায়, সামরিক মহড়া শেষে ইউক্রেনে সীমান্ত থেকে ঘাঁটিতে ফিরতে শুরু করেছে রুশ সেনারা। কিন্তু পশ্চিমা দেশের কর্মকর্তারা বলছেন, মস্কোর এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ তারা পাননি। বরং ইউক্রেন সীমান্তে সেনা সংখ্যা আরও বাড়িয়েছে মস্কো।

পশ্চিমা কর্মকর্তা গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সতর্ক করছে যে, রাশিয়া হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। অবশ্য ইউক্রেনে হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে বরাবরই দাবি করে আসছে মস্কো। এ ছাড়া রুশ সেনারা ওই অঞ্চলে সামরিক মহড়া চালাচ্ছে বলেও জানিয়েছে রাশিয়া।

এদিকে ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডেনিস মোনাস্টিরস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়া যেকোনো সময় হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই ইউক্রেনের সেনারা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।

ইউক্রেনে রুশ হামলার হুমকি এখনও রয়েছে কি না; সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে বরিস জনসন বলেন, যেসব প্রমাণ হাতে আসছে তাতে আমি ভীত। ইউক্রেনে হামলার হুমকি এখনও রয়েছে। বলা যায়, হামলার পরিকল্পনা কিছু ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে শুরুও হয়ে গেছে।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার জানিয়েছে, রুশপন্থি বিদ্রোহীরা ৭০ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এর মধ্যে ৬০ বার ৮২ এবং ১২০ মিলিমিটার-ক্যালিবার কামানের গোলা ব্যবহার করা হয়। কিন্তু যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় এ ধরনের কামানের গোলা ব্যবহার নিষিদ্ধ।