ইভ্যালি থেকে রাসেল-শামীমা বেতন নিতেন ১০ লাখ টাকা

ইভ্যালি থেকে রাসেল-শামীমা বেতন নিতেন ১০ লাখ টাকা

ইভ্যালির কর্মচারীদের বেতন বন্ধ থাকলেও পদাধিকার বলে মাসে পাঁচ লাখ টাকা করে বেতন নিতেন রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিন।

ইভ্যালি থেকে কেনা অডি ও রেঞ্জ রোভার গাড়ি নিজেরা ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করতেন। গত শুক্রবার দুপুরে র‌্যাব সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ তথ্য দেন।

তিনি বলেন, বিপুল সংখ্যক গ্রাহক তৈরি করে একটি ব্র্যান্ডভ্যালু তৈরির পরিকল্পনা ছিল ইভ্যালির সিইও রাসেলের। ব্র্যান্ডভ্যালুকে কাজে লাগিয়ে কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছে দায়সহ বিক্রি করে দিতেন।

এছাড়া, তিনবছর পূর্ণ হলে শেয়ার মার্কেটে অন্তর্ভুক্ত হয়ে দায় চাপানোর পরিকল্পনা নেন রাসেল। সর্বশেষ দায় মেটাতে ব্যর্থ হলে দেওলিয়া ঘোষণার পরিকল্পনাও ছিল তার।

সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার আল মঈন বলেন, রাসেলের ব্যবসায়িক অপকৌশলের মধ্যে অন্যতম হলো নতুন গ্রাহকের ওপর দায় চাপিয়ে পুরনো গ্রাহকদের আংশিক অর্থ বা পণ্য ফেরত দেওয়া। যার তার এই দায় ট্রান্সফারের দুরভীসন্ধিমূলক অপকৌশল চালিয়ে তিনি এভাবে প্রতারণা করে আসছিলেন।

প্রতিষ্ঠানটির নেটওয়ার্কে যত গ্রাহক তৈরি হয় তার দায় ততই বাড়তে থাকে। রাসেল জেনেশুনেই এই অপকৌশল চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ইভ্যালি ছাড়াও রাসেলের আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ই-ফুড, ই-খাত ও ই-বাজার অন্যতম।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল জানিয়েছে— বিদেশি একটি ই-কমার্সের কৌশল ১:২ আলোকে প্রথম তিনি তার ইভ্যালির কার্যক্রম শুরু করেন। প্রথম তিনি একটি ব্র্যান্ড তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন।

পরবর্তী সময় কোনো আন্তর্জাতিক বা দেশীয় বড় প্রতিষ্ঠানে তার কোম্পানি দায়সহ বিক্রি করে দেওয়ার একটি পরিকল্পনা ছিল তার। একইভাবে তিন বছর পূর্ণ হলেই শেয়ার মার্কেটে অন্তর্ভুক্তি  হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সর্বশেষ দায় মেটাতে না পারলে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করার একটি পরিকল্পনা নিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইভ্যালির সিইও রাসেল ও তার স্ত্রী-প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

তাদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে ‌র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে চালু হওয়া ইভ্যালি এখনো কোনো লাভ করতে পারেনি। অথচ তার অফিস পরিচালনা ও স্টাফদের বেতন বাবদ ব্যয় ছিল প্রায় ৫ কোটি টাকা। যার পুরোটাই গ্রাহকের কষ্টার্জিত বিনিয়োগের অর্থে।