ই-কমার্সের নামে হাজার কোটি টাকা লোপাট

ই-কমার্সের নামে হাজার কোটি টাকা লোপাট

বাজারমূল্যের চেয়ে অর্ধেক দামে পণ্য বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে ই-ভ্যালিসহ বেশকিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান লাখ লাখ গ্রাহকের হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এরই মধ্যে ই-ভ্যালির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করার কথা জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বাধীন আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ভোক্তা ঠকানোর অভিযোগে আলোচিত ১০ ই-কমার্স কোম্পানির হিসাব খতিয়ে দেখতে তৃতীয় পক্ষের নিরীক্ষক নিয়োগ দেয়া গেলে উঠে আসবে প্রকৃত চিত্র।

বেশ কয়েক বছর ধরেই  প্রসার হচ্ছে দেশে ই-কমার্স ব্যবসা। তবে মহামারী শুরু হলে নতুন নতুন বেশ কিছু কোম্পানি রাতারাতি ফুলে ফেঁপে উঠে। বাজারমূল্যের চেয়ে অর্ধেক দামে পণ্য বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকের হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান।

অনেকে অর্ধেক দামে পণ্য কিনে পরে বেশি দামে বিক্রির আশায় এসব কোম্পানিতে লাখ লাখ টাকার অর্ডার করেছেন। যাদের অনেকেই আবার নেমেছেন রাজপথে। তবে গ্রাহকদের পণ্য বা টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে বাড়ছে সংশয়।

তবে ই-ভ্যালিসহ ১০টি ই–কমার্স প্রতিষ্ঠানে আলাদা নিরীক্ষা করতে গেল রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। যেখানে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নিরীক্ষক নিয়োগ দিয়ে নিরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তালিকায় থাকা বাকি ৯ প্রতিষ্ঠান হলো ধামাকা, ই–অরেঞ্জ, সিরাজগঞ্জ শপ, আলাদিনের প্রদীপ, কিউকুম, বুম বুম, আদিয়ান মার্ট, নিড ডটকম ডটবিডি ও আলেশা মার্ট।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিরাজুল ইসলাম জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আমাদের জানালে আমরা আমাদের মতামত জানিয়েছি। বলেছি, নিরপেক্ষ কোন নিরীক্ষক নিয়োগ দেয়া গেলে উঠে আসবে প্রকৃত চিত্র। এখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করে যদি বাংলাদেশ ব্যাংকে ব্যবস্থা নিতে বলে তাহলে আমরা সেই ভাবে কাজ করবো।

 

আর্থিক অনিয়ম ও ভোক্তা ঠকানোর অভিযোগে অভিযুক্ত এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলে প্রতিবাদ হলেও দায় নেয় নি বাণিজ্য মন্ত্রলায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বাধীন আন্ত:মন্ত্রণালয় কমিটি জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ডাব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সরাসরি কিছু না করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেটি করবে এমন কিছুর পরিপেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। আমরা চাই যেন গ্রাহকরা তাদের পাওয়া বুঝে পাক।

ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা আরও আগে তৈরি করা হলে মানুষের বঞ্চনা কম হতো বলেও মনে করেন ডাব্লিউও সেলের মহাপরিচালক।

প্রায় ১১৬ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ এনে ই-কমার্স কোম্পানি ধামাকার বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি। অন্যদিকে, ই ভ্যালি আশ্বস্ত করলেও টাকা পাচার হয়েছে কি না তা নিয়ে সন্দেহ জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।