ঈদের ছুটি নিয়ে সুখবর

সংগ্রহীত

ঈদের ছুটি নিয়ে সুখবর
করোনা মহামারিতে দেশজুড়ে চলছে কঠোর বিধিনিষেধ। নেই কোনো ঈদের আমেজ। তারপরও ছুটি নিয়ে অনেকের রয়েছে বাড়তি আগ্রহ। এমতাবস্থায় আসন্ন ঈদুল আজহার সরকারি ছুটিতে যোগ গতে পারে নতুন সুখবর।
শুক্র ও শনিবার দুইদিন সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় আসন্ন ঈদুল আজহার ছুটি পাঁচ দিনে দাঁড়াতে পারে। যদিও প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, পরিস্থিতির উপর সবকিছু নির্ভর করছে।
মন্ত্রিসভার অনুমোদিত ২০২১ সালের সরকারি ছুটির তালিকায় দেখা গেছে, ২১ জুলাই ঈদুল আজহা ধরে ২০, ২১ ও ২২ জুলাই তিন দিন ছুটি।
সেই হিসেবে সরকারি ঈদের ছুটির শেষ দিন বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই)। এরপর সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় শুক্রবার ও শনিবার সরকারি এই ছুটির সঙ্গে যোগ হতে পারে। সবমিলিয়ে তাহলে ছুটি দাঁড়াবে পাঁচ দিন।
তবে চলমান করোনাভাইরাস সংক্রমণের ব্যাপকতায় দেশজুড়ে চলছে কঠোর বিধিনিষেধ। এমন পরিস্থিতিতে বিগত দিনের মতো ঘরে বসে ঈদ উদযাপন করতে হতে পারে দেশবাসীকে। রাজধানীবাসীর ঘরে ফেরাকে কেন্দ্র করে যাতে করোনা সংক্রমণ ব্যাপকহারে ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্য নিয়ন্ত্রিত হতে পারে ঈদযাত্রা।
ঈদুল ফিতরের মতো ঈদুল আজহাও চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। আরবি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়। তবে চলতি জিলক্বদ মাস যদি ২৯ দিনে হয় তাহলে ২১ জুলাই আর জিলক্বদ মাস ৩০ দিন পূর্ণ হলে একদিন পিছিয়ে ২২ জুলাই ঈদুল আজহা পালিত হবে।
জানা গেছে, আগামী রোববার (১১ জুলাই, আরবি ২৯ জিলক্বদ) সন্ধ্যায় পবিত্র হজের মাস গণনা শুরু ও পবিত্র ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণে বৈঠকে বসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।
তবে করোনা বিস্তার ঠেকাতে ঈদের ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির যে সমন্বয় তাতে ব্যত্যয় ঘটতে পারে। সবশেষ ঈদুল ফিতরে যেমনটা করা হয়েছিল। ঈদযাত্রায় করোনার বিস্তার ঠেকাতে ৩ দিনের ছুটি ঘোষণা করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। আর পশু কোরবানি ও ঈদের নামাজের বিষয়ে আসতে পারে নতুন বিধিনিষেধও।
ঈদের ছুটির বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করছে সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, সবকিছুই নির্ভর করছে পরিস্থিতির উপর।
এদিকে সৌদিআরবের জ্যোতির্বিদ ও গবেষক ড. খালেদ আল-যাকাক, জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী আরবি চন্দ্র মাসের হিসেবে দেখে এবারের জিলক্বদ মাস ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ার কথা জানান।
সে হিসেবে জিলহজ্ব মাসের ৯ তারিখ পবিত্র আরাফা দিবস ইংরেজি ক্যালেন্ডারের ১৯ জুলাই এবং ঈদুল আজহা ২০ জুলাই অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে সৌদি আল-আরাবিয়া চ্যানেলে বিবৃতি দিয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, মাসের প্রথম ও শেষ দিনগুলোকে ক্রিসেন্ট পর্ব (ডুবন্ত চাঁদের চিহ্ন) বলা হয় এবং এরপরই জিলক্বদ মাসের পর থেকে চাঁদ প্রতিদিন সূর্য থেকে পশ্চিমে সরে যায়, তার হিসেবে পশ্চিম দিকের সূর্যাস্তের পরে চাঁদের উত্থান মাসের শেষের দিকে এবং নতুন মাসের শুরু হওয়ার চূড়ান্ত প্রমাণ।
গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, সৌদিতে ১১ জুলাই (রোববার) জিলহ্জ্ব মাসের প্রথম দিবস, ১৯ জুলাই (সোমবার) হবে আরাফার দিন এবং ঈদুল আজহার তারিখ হবে ২০ জুলাই (মঙ্গলবার)।