একতরফা নির্বাচন কমিশন মানবে না বিএনপি

একতরফা নির্বাচন কমিশন মানবে না বিএনপি

একতরফা নির্বাচন কমিশন গঠন করা হলে, তা মানবে না বিএনপি। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাবনা, মতামত ও সংলাপের ভিত্তিতে ‘নিরপেক্ষ ও কার্যকর’ একটি কমিশন চায় দলটি। এ জন্য দলটির নীতিনির্ধারকরা ইসি গঠনে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ও মতামত তুলে ধরতে নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করেছেন। মাস দু’য়েকের মধ্যেই বিএনপি তাদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান তুলে ধরতে পারে। একই সাথে নিরপেক্ষ ইসি গঠনে সরকারের ওপর চাপ তৈরিতে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সাথেও দলটি আলোচনা করবে। মাঠেও এ দাবিতে সোচ্চার হবে তারা।

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মেয়াদ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হচ্ছে। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নতুন কমিশন গঠন নিয়ে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে আলোচনা।

জানা গেছে, নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন ইসি চায় মাঠের বিরোধী দল বিএনপি। ‘নিরপেক্ষ’ ইসি গঠনে ইতোমধ্যে দলের কর্মপরিকল্পনা ঠিক করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিতে দলীয় ফোরামে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। জানা গেছে, সবার মতামত পর্যালোচনা করে ‘নিরপেক্ষ ও স্বাধীন’ ইসি গঠনে একটি ‘প্রস্তাবনা’ উপস্থাপন করবে বিএনপি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ প্রসঙ্গে বলেছেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ ব্যর্থ। যদি আগের পদ্ধতি অনুসরণ করে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়, আমাদের কাছে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। আমরা চিন্তা করছি, সময়মতো রাষ্ট্রপতিকে আমাদের প্রস্তাব দেবো।
২০১৭ সালে সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে বর্তমান কমিশন গঠন করা হয়। আগামী বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের এই কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তার আগেই নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারদের নাম চূড়ান্ত করতে হবে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠনের আগেও রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দিয়েছিল বিএনপি। পরে রাষ্ট্রপতির সাথে সংলাপেও বসেছিল তারা।

রাষ্ট্রপতির সাথে সংলাপে বিএনপি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন এবং পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে ১৩ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন খালেদা জিয়া। প্রস্তাবে বিএনপি সাবেক একজন প্রধান বিচারপতিকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের বাছাই কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিল, যারা নতুন নির্বাচন কমিশনারদের নাম প্রস্তাব করবেন। তাদের মধ্য থেকে সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি।

বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতারা জানিয়েছেন, শুরু থেকেই বর্তমান কমিশনে অনাস্থা জানিয়ে আসছে বিএনপি। ইতোমধ্যে এই কমিশনের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণাও দিয়েছে দলটি। নতুন যে কমিশন গঠন করা হবে, এর গ্রহণযোগ্যতা এবং নিরপেক্ষতার বিষয়ে অন্যান্য বিরোধী দলগুলোকেও পাশে চায় দলটি। এ ইস্যুতে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে। ইসি পুনর্গঠনের আগে নিবন্ধিত দলের সাথে আলোচনায় বসতে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয়ার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে তাদের মত নেয়া হবে।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বর্তমান কমিশন বারবার প্রমাণ দিয়েছে তাদের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই জনগণ একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন প্রত্যাশা করে। তিনি বলেন, যে প্রক্রিয়ায় ইসি গঠন হয়, তাতে তারা সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের নির্বাচন কমিশন গঠন করতে না পারে সেই বিষয়ে আমরা দলীয় ফোরামে আলোচনা করেছি। রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়ে জনগণের সামনে তা উপস্থাপন করা হবে।

রাষ্ট্রপতির কাছে এ বিষয়ে আবেদন জানাবেন কি না, এ প্রসঙ্গে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, স্বাধীন ইসি গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়ে যেখানে যেখানে কথা বলা দরকার, সেখানে কথা বলা হবে। বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, দলীয় কমিশনের অধীনে নির্বাচন কতটা নিরপেক্ষ হয় তার বড় প্রমাণ বর্তমান ইসি। নির্বাচন ব্যবস্থাটা কিভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছে, তা জনগণ দেখেছে। তাই সবার মত উপেক্ষা করে সরকার একতরফাভাবে আজ্ঞাবহ ইসি পুনর্গঠন করলে তা জনগণ মেনে নেবে না। সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সরকার অবৈধভাবে নির্বাচন কমিশন গঠনের কোনো এখতিয়ার রাখে না। সবাইকে নিয়ে, সবার মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে।

এ দিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গঠন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিএনপি নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, বর্তমান ইসির সাংবিধানিক মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে। পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে নতুন ইসি। একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতির ‘সার্চ কমিটির’ মাধ্যমে বাছাই করে ইসি গঠন করা হয়। বর্তমান ইসির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে এর গঠনপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিএনপি নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।