এবার নিষেধাজ্ঞার কবলে রাশিয়ার মিত্র বেলারুশ

এবার নিষেধাজ্ঞার কবলে রাশিয়ার মিত্র বেলারুশ
এবার রাশিয়ার মিত্র বেলারুশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণে যোগদান ও সহায়তা করার জন্য বেলারুশের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রথম দফায় এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের বিদেশ বিষয়ক সচিব লিজ ট্রাস জানান, ইউক্রেনের চিফ অব জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল ভিক্টর গুলভিচসহ দেশটির সিনিয়র চারজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা ও দুটি সামরিক প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আলেকজান্দার লুকাশেঙ্কোর সরকার কার্যকরভাবে রাশিয়ার অবৈধ হামলাকে সমর্থন দিয়েছে এবং সহায়তা করছে। পুতিনকে সমর্থন দেওয়ার মূল্য বেলারুশকে ভোগ করতে হবে।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে আগেই ইউক্রেনে হামলা চালানোর অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল পশ্চিমা দেশগুলো। এবার সেই নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া শুরু করেছে বেলারুশ। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) রাশিয়ান বিমান নিজেদের আকাশপথ নিষিদ্ধ করে। পাল্টা ব্যবস্থা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, স্পেন, ইতালি, কানাডাসহ ৩৬টি দেশের এয়ারলাইনসের ফ্লাইট নিষিদ্ধ করে রাশিয়া।

দুই মাস ধরে ইউক্রেন সীমান্তে প্রায় ২ লাখ সেনা জড়ো করে রাশিয়া। রাশিয়ার সেনা মোতায়েন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো বারবার সতর্কতা দিয়েছিল। কিন্তু বরাবরই রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে হামলা চালানোর নির্দেশ দেন। এরপর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রুশ বাহিনী। ধ্বংস করে বিভিন্ন বিমানঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। হামলা থেকে বাঁচতে ইউক্রেন থেকে পালাচ্ছে লাখো মানুষ। এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সেনারা।

পরে যুদ্ধবিরতিতে আসতে সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলারুশে প্রথমবার আলোচনায় বসে রাশিয়া-ইউক্রেনের প্রতিনিধি দল। তবে আলোচনায় কোনো সমাধান আসেনি। তাই দুই দেশকেই দ্বিতীয় দফা বৈঠকে বসতে হচ্ছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইউক্রেনে শুরু হওয়া রুশ হামলায় ১৩ শিশুসহ অন্তত ১৩৬ জন নিহত হয়েছে। তবে ইউক্রেন বলছে, নিহত ব্যক্তির সংখ্যা সাড়ে ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে।

যুদ্ধ থেকে প্রাণে বাঁচতে ছয় লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ ইউক্রেন ছেড়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে যেতে বাধ্য হয়েছে।

এদিকে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ বিষয়ে আগামী সোমবার (৭ মার্চ) গণশুনানি শুরু করবেন হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)।