এবার সমুদ্র ছুঁয়ে উড়োজাহাজ নামবে কক্সবাজারের রানওয়েতে

এবার সমুদ্র ছুঁয়ে উড়োজাহাজ নামবে কক্সবাজারের রানওয়েতে

এবার সমুদ্র ছুঁয়ে উড়োজাহাজ নামবে বাংলাদেশেও। আর সেটি কক্সবাজার বিমানবন্দরে। প্রায় তিন হাজার সাতশো দশ কোটি টাকা ব্যয়ে সমুদ্রের উপর সম্প্রসারিত হচ্ছে নতুন রানওয়ে। আগামী রোববার এই প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সিভিল এভিয়েশন অথরিটির চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান জানান, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এই প্রযুক্তি দেশের এভিয়েশন খাতকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতি ও পর্যাটন খাতের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

নীল জলরাশির বুক ছুঁই-ছুঁই করে কিছুদূর উড়ে চলা। তারপর পাখির মতোই ডানায় মেলে সমুদ্রকূলে নেমে পড়া। বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতেও এবার এমন করেই নামবে উড়োজাহাজ।

প্রাচ্য কিংবা পাশ্চত্য ঢংয়ে বাংলাদেশে প্রথম বারের মতো কক্সবাজার বিমানবন্দরে সম্প্রসারিত হচ্ছে রানওয়ে। সমুদ্রের উপর সম্পসারিত এই রানওয়ে নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৭০৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা। সমুদ্র সংলগ্ন বাঁকখালি নদীর অংশে হতে যাওয়া এই প্রকল্পের কাজ পেয়েছে চীন। প্রকল্পের আওতায় বিদ্যমান রানেওয়ের দৈর্ঘ্য ৬ হাজার ৭৭৫ ফুট থেকে ৯ হাজার ফুটে এবং প্রস্থ ১২০ ফুট থেকে ২০০ ফুটে উন্নিত করা হবে। ২০২৪ সাল নাগাদ শেষ হবে পুরো প্রকল্পের কাজ।

সিভিল এভিয়েশন অথরিটির চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান নিউজ টোয়েন্টিফোরকে বলেন, অনেক উন্নত দেশে সমুদ্রে জমি বর্ধিত করে রানওয়ে করা হয়েছে। আমরা এই প্রযুক্তি পেতে যাচ্ছি। এটা আমাদের দেশের জন্য অনেক গর্বের।

আগামি ৫০ বছরের চাহিদা ও চ্যালেঞ্জ বিবেচনা করেই এই প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। দেশের পর্যটন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে এই প্রকল্প।

 

এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান আরও জানান, অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমুদ্রকে ঘিরে আরও বড় বড় প্রকল্প আসছে আগামীতে। বাংলাদেশে যখন কোন দুর্যোগ হয় তখন বিদেশ থেকে যে সাহায্যগুলো দ্রুত আনা হয় সেগুলো সরাসরি এই বিমানবন্দরে নামতে পারবে।

রোববার গণভবনে থেকে ভার্চুয়ালি স্বপ্নের এই প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ উপলক্ষে কক্সবাজারে যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ করেছে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কয়টি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরই আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।