এমন জয়ে লাভ নয়, ক্ষতি হচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের

এমন জয়ে লাভ নয়, ক্ষতি হচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের
বিশ্বকাপের আগে এমন স্লো উইকেটে খেলায়, ক্ষতি হচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের। জয়ের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গিয়ে ক্রিকেটারদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে ফেক কনফিডেন্স। যার ফলে ওমান-দুবাইয়ে বাড়তি চ্যালেঞ্জ সামলাতে হবে টাইগারদের। মন্তব্য সাবেক ক্রিকেটার এবং কোচের। তাদের মতে, স্পোর্টিং উইকেট না হলেও অন্তত ব্যাটিংবান্ধব পরিবেশে প্রস্তুতি না হলে বিশ্বকাপে ভুগতে হবে লাল সবুজের প্রতিনিধিদের।

ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়ের খেলা টি-টোয়েন্টি। মার মার কাট কাট চার ছক্কা আছড়ে পড়বে বাউন্ডারিতে, এটাই ছিল সবার ধারণা। কিন্তু নিজেদের ফর্ম অফ ক্রিকেট খেলতে গিয়ে, ফরম্যাটটাকেই ধ্বংস করতে বসেছে বিসিবি।


বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতিমূলক সিরিজগুলোতে, স্লো আর ঘূর্ণি উইকেট বানিয়ে বাংলাদেশ নাস্তানাবুদ করছে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডকে। কিন্তু অন্যের জন্য ফাঁদা পাতে, যে হরহামেশাই পড়ছেন বাংলার ব্যাটাররাও।

শেষ পাঁচ ম্যাচে একশ’র বেশি স্ট্রাইক রেটে মাত্র দুবার ব্যাট করতে পেরেছেন সাকিব আল হাসান। বাকি তিন ম্যাচেই তার অবস্থা ছিল তথৈবচ। সেটা যতটা না স্কিলের কারণে, তার চেয়ে অনেক বেশি বাজে উইকেটের কারণে। একই দশা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদেরও। দুবার তিনি আউট হয়েছেন কোনো রান না করেই। আর বাকি তিন ম্যাচে মাত্র একবার পার করতে পেরেছেন স্ট্রাইক রেটে একশ’র কোটা। ওপেনিং স্লটেও ভিন্নতা নেই কোনো।

সৌম্যর ফর্ম নিয়ে আলাদা করে কথা বলাটা এখানে বোকামি। ৫ ম্যাচ ব্যাটিং করে, নাঈম শেখও করতে পারেননি বিশেষ কিছু। এ অবস্থায় বিশ্বকাপের পরিণতি নিয়ে ভীত ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
সাবেক ক্রিকেটার হান্নান সরকার বলেন, ‌’বিশ্বকাপের আগে এটাকে কোনোভাবেই ভালো প্রস্তুতি বলা যায় না। ব্যাটসম্যানরা রান পাচ্ছে না। বোলাররা যে ভালো করছে, সেটাও নিজেদের উইকেটে। দুবাইয়ে এই উইকেট থাকবে না, সেখানে তারা কীভাবে পরিস্থিতি সামলাবে তার একতা অনুশীলন হওয়ার দরকার ছিল।‌’

বিকেএসপির ক্রিকেট উপদেষ্টা নাজমুল আবেদীন ফাহিম জানান, ‌’এর চেয়ে ভালো উইকেট মিরপুরে বানানো সম্ভব। সামনের ম্যাচগুলোতে কিছুটা ব্যাটিংবান্ধব উইকেট আশা করব। তা না হলে, আমাদের প্রস্তুতির ঘাটতি থেকেই যাবে।‌’

জয়ের আত্মবিশ্বাস দরকার আছে সবাই মানছেন। কিন্তু যে ফেক কনফিডেন্স বাড়ছে ক্রিকেটারদের মাঝে, তাতে হিতে বিপরীত হবে ওমান-দুবাইয়ে।

হান্নান সরকার আরও জানান, ‌’ব্যাটসম্যানদের চেয়েও আমি বোলারদের নিয়ে ভয়ে আছি। বিশ্বকাপে থাকবে ব্যাটিং সহায়ক উইকেট, সেখানে বোলারদের সামনে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ চলে আসবে। সেটা সামলাতে তাদের বেগ পেতে হবে।‌’

নাজমুল আবেদীন ফাহিম জানান, ‌’এ জয় আমাদের কোনো কাজেই আসবে না। যে ফলস কনফিডেন্স তৈরি হচ্ছে, সেটা ক্রিকেটারদের জন্য ক্ষতিকর। দুবাই এর কাছাকাছি উইকেটেও যদি খেলা হয়, তাহলেও সবার উপকার হবে। না হলে পুরো পরিকল্পনা বুমেরাং হবে।‌’

উইকেটের এমন আচরণে সমালোচনা হচ্ছে দেশের বাইরেও। টি-টোয়েন্টি বিশ্ব আসরের প্রস্তুতির নামে যা হচ্ছে এখানে, তা অবাক করেছে কমেন্টেটর, ক্রিকেটার সবাইকে।