কুমিল্লাকে হটিয়ে শীর্ষে উঠল বরিশাল

কুমিল্লাকে হটিয়ে শীর্ষে উঠল বরিশাল
ব্যাটে-বলে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে কুমিল্লাকে একাই ধসে দিলেন সাকিব আল হাসান। সিলেটপর্বের প্রথম ম্যাচে ভিক্টোরিয়ান্সদের বিপক্ষে ৩২ রানের জয় তুলে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানে উঠে এলো ফরচুন বরিশাল।

সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সিলেটপর্বে দিনের প্রথম ম্যাচে ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে ১৫৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ওভার শেষে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ৯ উইকেট হারিয়ে ১২৩ রান করতে সক্ষম হয়। ব্যাট হাতে ৫০ রানের ইনিংস খেলার পর বল হাতে ২০ রান খরচায় ২ উইকেট তুলে নিয়ে ভিক্টোরিয়ান্সদের একাই ধসে দেন সাকিব।

এর আগে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই নিজের উইকেট বিলিয়ে দেন ভিক্টোরিয়ান্সের অধিনায়ক ইমরুল কায়েস। আরেক ওপেনার লিটন দাস ১৭ বলে ৪ চারে ১৯ রানের ইনিংস খেলে মাঠ ছাড়েন। দুজনকেই সাজঘরে ফেরান সাকিব। বিশ্রাম থেকে ফেরা মুমিনুল হক ৩০ বলে ৩০ রানের ইনিংস খেলে নাঈম হাসানের শিকার হন। এরপর একে একে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন মাহমুদুল হাসান জয়, মঈন আলী, নাহিদুলরা। ৬৮ রান তুলতে ৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় কুমিল্লা।

শেষ পর্যন্ত  বোলারদের কল্যাণে লজ্জা এড়িয়ে ৯ উইকেট হারিয়ে ভিক্টোরিয়ান্সরা সংগ্রহ করে ১২৩ রান। তানভীর ১৪ বলে ২১ রান করে অপরাজিত থাকেন। বরিশালের বোলারদের মধ্যে নাঈম হাসান ২৯ রান খরচায় ৩ উইকেট শিকার করেন। সমান খরচায় ২ উইকেট শিকার করেন ডোয়াইন ব্রাভো।

এর আগে শীর্ষস্থান দখলের লড়াইয়ে সিলেটে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই মারমুখী ভঙ্গিতে ব্যাট চালাতে থাকেন ফরচুন বরিশালের দুই ওপেনার মুনিম শাহরিয়ার ও ক্রিস গেইল। দুজনের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৩২ রান। এদিন হতাশ করে টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট ব্যাটার ক্রিস গেইল। ৮ বলে ১০ রান করে তানভীর ইসলামের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হন তিনি। গত আসরেও বিবর্ণ ছিলেন ৪২ বছর বয়সী এই তারকা। চার ম্যাচ খেলে করেছিলেন ১৪৪ রান।

চলতি আসরে এখন পর্যন্ত ৫ ইনিংস খেলে ফেললেও কোনো ফিফটির দেখা পাননি। সব মিলিয়ে করেছেন মোটে ১১৭। একসময়ে টি-টোয়েন্টির রাজা এখন যেন বরিশালের বোঝা হয়ে আছেন। গেইলের ম্লান পারফরম্যান্সে ইংল্যান্ড থেকে স্যাম হেইনকে উড়িয়ে এনেছে বরিশাল। তবে গেইলের ওপর আস্থা রেখেই কুমিল্লার বিপক্ষে একাদশে তাকে রাখা হয়।

তবে ক্রিজের অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে ঝড় তুলতে থাকেন বিপিএলের চলতি আসরে অভিষিক্ত মুনিম। প্রথম সুযোগে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে ১ রান করে ফিরে গেলেও এই ম্যাচে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। মঈন আলীর বলে ফিরে যাওয়ার আগে ২৫ বলে তিনি খেলেন ৪৫ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস। ৪ চার ও ৩ ছক্কার মারে সাজানো ছিল তার ইনিংসটি। পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে আফগান টি-টোয়েন্টি সিরিজে টাইগারদের ওপেনার হিসেবে তাকে বিবেচনা করা যেতেই পারে।

ব্যর্থ নাজমুল হোসেন শান্তর পর ক্রিজে নেমে স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাট চালাতে থাকেন ফরচুন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তাকে ক্রিজে এসে সঙ্গ দেন তৌহিদ হৃদয়। দুজনে মিলে গড়েন ৬৭ রানের জুটি। করিম জানাতের বলে ক্যাচ তুলে দেওয়ার আগে আসরে দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন সাকিব। ৩৭ বল মোকাবিলায় ৪ চার ও ২ ছক্কার মারে তার ব্যাট থেকে আসে ৫০ রান।

এর আগে নিজেদের শেষ ম্যাচে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে ৫০ রানের ইনিংস খেলেন সাকিব। টাইগার অলরাউন্ডারের পরে ব্যাট হাতে নেমে ৫ বলে ১০ রানের ইনিংস খেলে মুস্তাফিজের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়েন ডোয়াইন ব্রাভো। চলতি বিপিএলে ঢাকার বিপক্ষে ৩৩ রানের একটি ইনিংস বাদে আর কোনো ম্যাচে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠতে পারেননি এই ক্যারিবীয় ব্যাটার। শেষদিকে হৃদয়ের ৩১ রানের ইনিংসে বরিশালের সংগ্রহ গিয়ে দাঁড়ায় ১৫৫ রান।

৮ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে ‍উঠে এলো ফরচুন বরিশাল। এক ম্যাচ কম খেলে ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে নেমে এলো কুমিল্লা।