কেন্দ্রীয় কারাগারে অর্ধশতাধিক বন্দী মানসিক রোগাক্রান্ত

কেন্দ্রীয় কারাগারে অর্ধশতাধিক বন্দী মানসিক রোগাক্রান্ত

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ৫০ জনের বেশি বন্দী মানসিক রোগে আক্রান্ত। তাদের কারাগারের ভেতরে জলসিঁড়ি ভবনে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মানসিক রোগী ও মাদকাসক্তদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের সব কারাগারেই এমন আলাদা চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে।

কারা অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, অনেক আগে থেকেই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের সব কারাগারে এসব রোগীদের আলাদা রেখে চিকিৎসার দেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকসহ পর্যাপ্ত ওষুধপত্র থাকে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র জানায়, সেখানে ৫০ জনেরও বেশি বন্দী মানসিক রোগে আক্রান্ত। তাদের চিকিৎসা চলছে। এই রোগীদের অনেকেই পারিবারিক মামলায় কারাভোগ করছেন।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের (কেরাণীগঞ্জ) চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল হাসান শুভ জানান, কারাগারের ভেতরে জলসিঁড়ি ভবনে দুটি কক্ষে ৫০ জনের বেশি মানসিক রোগী আছে, যারা বিভিন্ন মামলার আসামি। এছাড়া ওপরে একটি কক্ষে মাদকাসক্ত ও অপর একটি কক্ষে টিবি রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তিনি জানান, মানসিক রোগীসহ অন্য রোগীদের যত ওষুধ লাগে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, ওই জলসিঁড়ি ভবনের দ্বিতীয়তলায় একটি কক্ষে মাদকসেবীদের রাখা হয়।  সুস্থ হওয়া না পর্যন্ত তারা সেখানেই থাকে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুভাষ কুমার জানান, জলসিড়ি ভবনে ধারণ ক্ষমতার বেশি রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মাদকাসক্ত বন্দীদের এখানে কাউন্সেলিংও করানো হয়। শিক্ষিত বন্দীরা তাদের কাউন্সেলিং করেন, যারা আগে মাদকাসক্ত ছিলেন। সেখানে এখন মানসিক রোগীর সংখ্যা বেশি।

এ বিষয়ে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোমিনুর রহমান মামুন বলেন, মানসিক রোগাক্রান্ত ও মাদকাসক্ত বন্দীদের দেশের সব কারাগারে আলাদা ব্যবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া হয়।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কারাগারে মানসিক রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি সরকারি মানসিক হাসপাতালে রোগীদের পাঠিয়ে রিভিউ করা হয়। এছাড়া নিজেদের ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি মাদক অধিদপ্তর থেকে প্রতিনিধি এনে বন্দী মাদকাসক্তদের কাউন্সেলিং করানো হয়।