কোভিড-১৯: হাসপাতালে ঘুরে ঘুরেই বাড়ছে মৃত্যু

সংগ্রহীত

কোভিড-১৯: হাসপাতালে ঘুরে ঘুরেই বাড়ছে মৃত্যু

করোনাভাইরাসের নতুন ঢেউয়ের মধ্যে শয্যা সংকটে থাকা রাজধানীর সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে যথাসময়ে চিকিৎসা না পেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অনেক রোগী যে মৃত্যুর পথ ধরছেন তা মানছেন হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা।

কোভিড-১৯ চিকিৎসায় বিশেষায়িত হাসপাতালের দায়িত্বশীলরা বলছেন, সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্যে ‘ক্রিটিক্যাল’ রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে এমন অনেক রোগীকে ফিরিয়ে দিতে হয়েছে।

তারা বলছেন, রাজধানীর বাইরে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রসহ (আইসিইউ) হাসপাতালগুলোর শয্যা ফাঁকা থাকলেও ‘ভাল চিকিৎসার জন্য’ মানুষ ঢাকামুখী হওয়ায় বাড়তি চাপ যোগ হয়েছে।

সংক্রমণের নতুন ঢেউয়ের এই সময়ে অনেকে অসুস্থ হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বাসায় নিজেরা চিকিৎসা করতে গিয়ে ভুল করছেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে ছুটছেন। ফলে বাড়ছে মৃত্যুর ঝুঁকি ।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একদিনে রেকর্ড ৬৬ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে, যাদের মধ্যে ৫৪ জনই ঢাকায়। এক দিনে দেশে ৭ হাজার ২১৩ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। দুটোই মহামারীর এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যা।

রোগীরা যে একাধিক হাসপাতাল ঘুরে প্রতিদিনের মৃত্যু তালিকায় যোগ হচ্ছেন সেকথা জানালেন তেজগাঁওয়ের ইমপালস্ হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার।

তিনি বলেন, অনেক হাসপাতাল ঘুরে শেষ মুহূর্তে আইসিইউতে ভর্তির জন্য রোগীরা আসছেন। এজন্য তাদের মৃত্যুর হারটাও বেশি।

“আইসিইউ রিকভারিটা খুব বেশি না। যারা জটিল অবস্থায় যাওয়ার আগে ভর্তি হচ্ছেন, তাদের রিকভারিটা ভালো।”

এই বেসরকারি হাসপাতালেও রোগীর কতটা চাপ পড়ছে সেটিও ব্যাখ্যা করলেন খাদিজা আক্তার।

“অনেক রোগী আসছে। আমাদের কোনো বেড ফাঁকা নাই; কেবিন, আইসিইউ কোনোটাই ফাঁকা নাই। প্রচণ্ড রোগীর চাপের মধ্যে আছি আমরা। একটা আইসিইউয়ের জন্য ৫টা রোগীর চাহিদা থাকে।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সক্রিয় রোগী রয়েছেন ৮৩ হাজার ৮৮৫ জন, যা গত ৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এদের মধ্যে ৪ হাজার ৬৯৫ জন সাধারণ শয্যা ও ৪১৭ জন আইসিইউ শয্যায় রয়েছেন।

ঢাকা মহানগরীর ১৯টি কোভিড হাসপাতালে ২৫টি আইসিইউ শয্যা ও ২৭২টি সাধারণ শয্যা ফাঁকা রয়েছে।

যদিও হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরকারি তথ্যের চেয়ে বেশি রোগীতে রাজধানীর হাসপাতালগুলো পূর্ণ।