খালি গায়ে নারীদের দিচ্ছেন করোনার টিকা, করছেন ধূমপানও

খালি গায়ে নারীদের দিচ্ছেন করোনার টিকা, করছেন ধূমপানও

পরনে শুধু প্যান্ট। খুলে রেখেছেন গায়ের শার্ট। এভাবে খালি গায়ে নারীদের শরীরে দিচ্ছেন করোনার টিকা। আবার একটু চাপ কমলেই টিকাকেন্দ্রের চেয়ারে বসেই ফুঁকছেন সিগারেট!

আজ দুপুরে এমনই চিত্র দেখা গেছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। উদোম গায়ে যিনি টিকা দিচ্ছিলেন তার নাম শহিদুল ইসলাম। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই)। তার এমন কাণ্ডে টিকা নিতে আসে নারীদের মাঝে অস্বস্তি দেখা গেছে।

টিকা নেওয়া শেষে বেশ কয়েকজন নারী বলেন, সরকারি হাসপাতালে এভাবে খালি গায়ে টিকা দেওয়া এর আগে কোনোদিন দেখিনি।

শহিদুল ইসলামের নিয়মবহির্ভূত এমন কাণ্ডের ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নারী ও পুরুষের আলাদা কোনো বুথ নেই। সে কারণে শহিদুল ইসলাম একজন নার্সকে সঙ্গে নিয়ে কমপ্লেক্স কেন্দ্রে উপস্থিত নারীদের টিকা দিতে থাকেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মচারী জানান, সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে প্রায় দুপুর ১টা পর্যন্ত তিনি খালি গায়ে টিকা দিয়েছেন। এর মধ্যে তিনি একবার ধূমপানও করেছেন।

 

রিতা রানি নামের এক নারী বলেন, খালি গায়ে থাকা এক ব্যক্তি আমাকে টিকা দিয়েছেন এটি আমার কাছে খুব অস্বস্তিকর লাগছে। খালি গায়ে টিকা দেওয়ার বিধান যদি না থাকে তবে ব্যক্তিটির উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিত।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) শহিদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, গায়ের শার্ট ঘেমে ভিজে গিয়েছিল। তাই খুলে রোদে দিয়েছিলাম। এজন্য খালি গায়ে টিকা দিয়েছি। যখন লোকজনের চাপ কম ছিল, তখন একটু দূরে বসে ধূমপান করেছি।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. অরুন কুমার বলেন, খালি গায়ে দায়িত্ব পালন করার কোনো নিয়ম নেই। তাছাড়া পাবলিক স্থানে ধূমপান করার কোন বিধানও নেই। চাকরি বিধি অনুযায়ী যদি তিনি কোনো ধরনের অবহেলা করে থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।