খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার উপায় জানালেন আইনমন্ত্রী

খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার উপায় জানালেন আইনমন্ত্রী
আবারো আলোচনায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশ গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার ইস্যু। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে হলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আবারও কারাগারে যেতে হবে।

তিনি জানান, কারাগারে গিয়ে বিদেশ যাওয়ার আবেদন করা না হলে তা বিবেচনা করা হবে না।

শনিবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন মন্ত্রী।
আইনমন্ত্রী বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী সরকারের অনুমতি নিয়ে খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে আবারও তাকে জেলে যেতে হবে। এরপর নতুন করে আবেদন করতে হবে। কারণ যে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার দণ্ড স্থগিত করে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, সেটার আলোকে তাকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সেই আবেদন নিষ্পতি হয়ে গেছে।
আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের আগেই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানিতে বেঞ্চ গঠনের পরামর্শও দেন আইনমন্ত্রী।
তিনি আরো বলেন,  একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আপিল শুনানির জন্য ১৫ সেপ্টেম্বরের আগেই বেঞ্চ নির্ধারণের জন্য আবেদন করতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলেছি।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালে ৮ ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালতের দেওয়া ৫ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ২ বছর ১৭ দিন কারাভোগের পর করোনা সংক্রমণের কারণে গত বছরের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে ছয় মাসের জন্য মুক্তি পান তিনি। এরপর তিন দফায় ছয় মাস করে বাড়ানোর হয় জামিনের মেয়াদ।
তবে গত মে মাসে খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে বিদেশে চিকিৎসার অনুমোদন চেয়ে আবেদন করে তার পরিবার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের কাছে আবেদনটি মতামতের জন্য পাঠানো হয় আইন মন্ত্রণালয়ে। তবে দণ্ডিত ব্যক্তিকে বিদেশে যাওয়ার আইনি সুযোগ নেই বলে মতামত দেয় আইন মন্ত্রণালয়।
এ প্রেক্ষাপটে শনিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, পুনরায় জেলে যাওয়া ছাড়া বিদেশে যাওয়ার আবেদন করতে পারবেন না খালেদা জিয়া।
করোনা আক্রান্ত হয়ে দুই দফা রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর বিএনপি চেয়ারপারসন এখন গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় অবস্থান করছেন। এরই মধ্যে করোনার দুই ডোজ টিকাও নিয়েছেন তিনি।