গত তিন দিনে সারাদেশে ভেজাল মদ পান করে ১৫ জনের মৃত্যু, বাড়ছে উৎকণ্ঠা

সংগ্রহীত

গত তিন দিনে সারাদেশে ভেজাল মদ পান করে ১৫ জনের মৃত্যু, বাড়ছে উৎকণ্ঠা

গত তিন দিনে সারাদেশে ভেজাল মদ পান করে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৫ জনের। যার মধ্যে শুধু বগুড়ায় ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আরো বেশ কয়েকজন অসুস্থ অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মদ্যপানে যাদের মৃত্যু হয়েছে এবং যারা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন, তাদের অধিকাংশের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ‘মিথানল বিষক্রিয়া’র উল্লেখ রয়েছে।

ঢাকার অন্তত চারটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে কথা বলে জানা যায় গত কয়েক সপ্তাহে মদ পানের পর বিষক্রিয়ার উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে বেড়েছে। চিকিৎসক ও রসায়নবিদদের মতে, মিথানল মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক হতে পারে।

বাণিজ্যিকভাবে মদ তৈরি করা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্যে এ্যালকোহলের পরিমাণ মানুষের গ্রহণের জন্য নিরাপদ মাত্রায় নামিয়ে আনেন।অসাধু ও অবৈধ ব্যবসায়ীরা অনেকসময় তৈরি করা মদের সাথে শিল্প কারখানার কাজে ব্যবহৃত মিথানল যোগ করেন।

মিথানল বা মিথাইল অ্যালকোহল হচ্ছে স্পিরিটের সবচেয়ে অশোধিত পর্যায়। যা সাধারণত হালকা, বর্ণহীন এবং উগ্র গন্ধযুক্ত হয়। কাঠের বা প্লাস্টিকের কাজ, বার্নিশ বা রং করা অথবা ছাপাখানার কাজ – এরকম বহু ক্ষেত্রে মিথানল ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

সরকার অনুমোদিত কিছু ওয়্যার হাউজ, লাইসেন্সকৃত পানশালা এবং বিভিন্ন হোটেল ছাড়া বাংলাদেশে সব জায়গাতেই মদ সেবন এবং সব দোকানে মদ বিক্রির বিষয়ে বিধিনিষেধ আছে। শুধু মদ সেবন করার লাইসেন্সধারী ব্যক্তিরাই এইসব জায়গা থেকে মদ কিনতে পারবেন।

তবে আইনের কড়াকড়ি থাকলেও  মদ্যপায়িদের  একটা বড় অংশ মদ কিনে থাকেন অবৈধ বিক্রেতাদের কাছ থেকে। আর ক্রেতাদের এই চাহিদার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভেজাল মদ তৈরি ও বিক্রি করেন এক শ্রেণীর বিক্রেতা।

সোমবার রাতে রাজধানীর ভাটারায় এমন একটি ভেজাল মদের কারখানার সন্ধান পেয়েছে। সেখান থেকে ৬ জনকে আটক করা হয়।