গুম হওয়া পরিবারের অসহায়ত্বের দায় সরকারকেই নিতে হবে

সংগ্রহীত

গুম হওয়া পরিবারের অসহায়ত্বের দায় সরকারকেই নিতে হবে

গুম হওয়া পরিবারের অসহায়ত্বের দায় সরকারকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, এই পরিবারগুলোর অসহায়ত্বের দায় কে নেবে? এখানে অনেকে আছেন যে, ৯ বছর ১০ বছর ধরে তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের সাবেক এমপি সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী, ঢাকার কমিশনার চৌধুরী আলমসহ আজকে আমাদের ৫‘শ অধিক নেতা-কর্মী গুম হয়ে গেছেন ৭/৮/৯ বছর ধরে। ইলিয়াস আলীর মেয়ের এখন বড় হয়েছে সে এখনো দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকে যে, কথন তার বাবা ফিরে আসবে? বাবা ফিরে আসে না। বাচ্চাদের আহাজারি আপনারা শুনলেন।

আপনারা(সরকার) বলেন যে, এখানে এগুলো(গুম) হয় না। তা হলে গেলো কোথায়? দায়িত্ব তো আপনাদের। খুঁজে বের করে তাদেরকে তাদের পরিবারের কাছে একে একে ফেরত দিন। এটা অবশ্যই আপনাদেরকে দিতে হবে। অন্যথায় ইতিহাসের কাঠগড়ায় আপনাদেরকে তার জবাব দিতে হবে। জনগণের আদালতে আপনাদের বিচার করা হবে।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের আবেগময় আকুতিতে উপস্থিত অনেককে অশ্রুসজল হতে দেখা গেছে। কেউ কেউ তার বাবার ছবি, কেউ তার ভাইয়ের ছবি, কেউ তার সন্তানের ছবি, কেউ তার স্বামীর ছবি হাতে নিয়ে এই মানববন্ধনে অংশ নেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এমন দেশ এমন রাষ্ট্র আমরা বানালাম যেখানে আমার সন্তানেরা নিখোঁজ হয়ে যাবে, তাদের হদিস কেউ খুঁজে পাবে না এবং সেটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীর লোকেরা তাদেরকে তুলে নিয়ে যাবে, সরকার তার কোনো জবাব দেবে না।

আমরা তো আমাদের চোখের পানি রাখতে পারি না। অসহায়ত্বের বেদনার যন্ত্রণা আমাদের কুরে কুরে খায়। তোমাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বলতে চাই, আমরা আর কিছু না করতে পারি, আমরা শুধু তোমাদের পাশে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলতে চাই যে, আমার ভাইকে, আমার বাবাকে, আমার স্বামীকে ফিরিয়ে দাও।

তিনি বলেন, আমরা এখান থেকে মুক্তি চাই। আসুন আজকের এই দিনে আমরা গুমের যে কালচার সেই কালচারকে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য আমরা সবাই সোচ্চার হই। আমরা জোর গলা বলে উঠি যে, বন্ধ করো এবং তাদেরকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দাও। আমরা অবশ্যই আমাদের এই মানুষগুলোকে ফিরে পেতে চাই, তাদের পরিবারের কাছে যেন তারা ফিরে যেতে পারে।সরকারকে আমরা বার বার আহবান জানিয়েছি গুম হওয়া মানুষদের ফেরত দিন।

ফখরুল বলেন, এই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সরকার আজকে শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বেআইনিভাবে অবৈধভাবে গোটা জাতিকে ধবংস করে দিচ্ছে। আমাদের সংবিধানকে ধ্বংস করেছে, গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো ধবংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। অর্থনীতিকে ধবংস করেছে, গোটা প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছে।

সেজন্য আমাদের উচিত হবে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সরকারকে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করে একটা সত্যিকার অর্থেই জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা। যে সরকার এই অসহায় বাচ্চাগুলোর, এই পরিবারগুলোর যারা হারিয়ে গেছেন তাদেরকে বের করে নিয়ে আসার জন্য তারা কাজ করবে, ব্যবস্থা তারা করবে। আসুন আমরা সবাই দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে এই ভয়াবহ দানবীয় সরকার আমাদের ওপর চেপে বসেছে তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করার জন্য আমরা কাজ শুরু করি, আন্দোলন শুরু করি।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি মানবাধিকার সেলের উদ্যোগে গুম বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে এই মানববন্ধন কর্মসূচি হয়।

মারবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের সঞ্চালনায় এই মানববন্ধনে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, গুম হওয়া আনোয়ার হোসেনের মেয়ে রাইসা, মো. সোহেলের মেয়ে সাবা, মো. কাউসারের মেয়ে মীম, সেলিম রেজার বোন রেহানা আখতার মুন্নী, সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন আফরোজা ইসলাম আখি ও খালেদ হোসেনের মেয়ে শাম্মী আখতার নিপা বক্তব্য দেন।