গ্রীসে ৩ শতাধিক বাংলাদেশি প্রবাসীর সহায়-সম্বল পুড়ে ছাই

সংগ্রহীত

গ্রীসে ৩ শতাধিক বাংলাদেশি প্রবাসীর সহায়-সম্বল পুড়ে ছাই

গ্রীসে ভয়াবহ অগ্নি-দুর্ঘটনায় ৩ শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশির (কৃষিকর্মী) পাসপোর্ট, বিছানাপত্রসহ সহায়-সম্বল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবে আশার দিক হচ্ছে রোববারের ওই দুর্ঘটনা থেকে উদ্ধার পাওয়া সব বাংলাদেশিই অক্ষত রয়েছেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মঙ্গলবার এথেন্সে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে সবাই সবকিছু ফেলে প্রাণ বাঁচাতে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, অগ্নিকাণ্ডটি ঘটেছে রাজধানী এথেন্স থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে পশ্চিম গ্রীসের মানোলাদা এলাকায়। যা কৃষি খামারের জন্য বিখ্যাত। সেখানে প্রায় সাত হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি দীর্ঘদিন ধরে কৃষি কাজে সম্পৃক্ত।

অন্য জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে তারা সেখানে স্ট্রবেরি খামারসহ বিভিন্ন খামারে কাজ করেন। টিনশেডের বিভিন্ন অস্থায়ী ডরমেটিরিতে (ডেরা) তারা থাকেন। এর মধ্যে একটি ডরমিটরিতে আগুন লাগে, যেখানে ৩৮টি ঘর ছিল। ওই ঘরগুলোকে ফারাঙ্গা বলে।

অগ্নি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ফারাঙ্গাগুলোতে (অস্থায়ী আবাসস্থল) ৩ শতাধিক বাংলাদেশি ছিলেন জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, সেখানে থাকা তাদের পোশাক ও খাদ্যসমগ্রী, বিছানাপত্র, টাকা-পয়সাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র- সবই পুড়ে গেছে। তবে তারা প্রাণ রক্ষা করতে পেরেছেন।

স্থানীয় মিউনিসিপ্যালটি এবং ভুক্তভোগী প্রবাসীদের রবাতে দূতাবাস জানায়, রোববার বিকাল ৪টার দিকে সুনামগঞ্জের শিশু মিয়ার আওতাধীন ফারাঙ্গায় রান্নার সময় চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং মুহূর্তে তা ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পরদিন (সোমবার) এথেন্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমেদ এবং দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) বিশ্বজিত কুমার পাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জানিয়ে দূতাবাস বলেছে, স্থানীয় মিউনিপ্যালটির সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেকের খাবার এবং অস্থায়ী আবাসন নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা আপাতত সেখানে ভালোই আছেন। পরিদর্শনকালে ক্ষতিগ্রস্তরা রাষ্ট্রদূতকে বিনা ফি’তে পুনরায় পাসপোর্ট দেয়াসহ অন্যান্য সহযোগিতা প্রদানের অনুরোধ করেছেন। রাষ্ট্রদূত তাদের সমবেদনা জানিয়েছেন পাসপোর্ট তৈরিতে সহায়তা, টেকসই আবাসস্থল নিশ্চিত করা এবং বৈধতার জন্য আইনি সহায়তা প্রদানে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

পরবর্তীতে রাষ্ট্রদূত স্থানীয় ভারদা অঞ্চলের মেয়র লেজাস ইয়ানিসের সঙ্গে দুর্ঘটনা ও এর থেকে স্থায়ীভাবে উত্তরণের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন জানিয়ে দূতাবাস বলেছে, মেয়রের সঙ্গে বৈঠকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরাসহ সার্বিকভাবে কৃষি খাতে নিয়োজিত কর্মীদের জন্য মানোলাদা ও এর আশেপাশের গ্রামগুলোতে টেকসই আবাসস্থল তৈরির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেন মেয়র। প্রবাসীদের যেকোনো প্রয়োজনে মেয়র আন্তরিকভাবে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত মিস্টার আহমেদ জানান, দ্রুততম সময়ে নতুন কিছু আবাসন নির্মাণসহ ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস  দিয়েছেন মেয়র। ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের মধ্যে যারা অনিয়মিত (ডকুমেন্টবিহীন) তাদের বৈধতার বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করতে স্থানীয় প্রশাসন এবং দেশটির সরকারের কাছে দূতাবাসের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে জানিয়ে বাংলাদেশি দূত বলেন, সহায়-সম্বল পুড়ে যাওয়ায় অনেকে নিঃস্ব প্রায়। তাদের সহায়তা জরুরি। আমরা এটি অব্যাহত রাখতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছি।

উল্লেখ্য, দূতাবাস টিমের ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে গ্রীসের বাংলাদেশ কমিউনিটির সংগঠকরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। দূতাবাসের আহ্বানে এথেন্সসহ গ্রীসের বিভিন্ন স্থানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে রয়েছেন। সূত্র: মানবজমিন