চলচ্চিত্র- ‘আগস্ট ১৯৭৫’ ও এড. সিরাজুল হক বাচ্চু-এস এম শাহনূর।

চলচ্চিত্র- ‘আগস্ট ১৯৭৫’ ও এড. সিরাজুল হক বাচ্চু

এস এম শাহনূর : ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খন্দকার মোশতাকের মন্ত্রী সভার আমন্ত্রণ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন যিনি, তিনি কসবার গর্ব মাননীয় আইনমন্ত্রীর পিতা এডভোকেট সিরাজুল হক বাচ্চু মিয়া । আজ ২৮ অক্টোবর এ মহান নেতার ১৯তম মৃত্যু বার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের সনদ পত্র (এল এফ ২৯/২০২১) নিয়ে ছাড় পাওয়া চলচ্চিত্র “আগস্ট ১৯৭৫”। শামীম আহমেদ রনী’র কাহিনী সংলাপ ও চিনাট্যে মোঃ সেলিম খান প্রযোজিত ও পরিচালিত ১ ঘন্টা ৪০ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড দীর্ঘ এ চলচ্চিত্রে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা ও হত্যা পরবর্তী কুচক্রী মহলের চালচিত্র ফুটে উঠেছে। কিছু সংখ্যক বিপদগামী সেনা কর্মকর্তার সহযোগিতায বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু খন্দকার মোশতাক আহমেদ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে। খন্দকার মোশতাক তার মন্ত্রী সভায় মন্ত্রীত্ব গ্রহণের জন্য বাংলাদেশের খ্যাতিমান কয়েকজন ব্যক্তিকে টেলিফোন করে আমন্ত্রণ জানায়। উক্ত চলচ্চিত্রটি শুরু হওয়ার ৩৯ মিনিট ১০ সেকেন্ড এ খন্দকার মোশতাক আহমেদ প্রথম যাঁকে ফোন করেছিলো তিনি হলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবার কৃতি সন্তান এডভোকেট সিরাজুল হক বাচ্চু মিয়া।এ সময় রাজ্যের চিন্তায় চিন্তিত উপমহাদেশের খ্যাতিমান আইনজ্ঞ এডভোকেট সিরাজুল হককে বেশ চিন্তিত ও বিমর্ষ দেখা যাচ্ছিল। তিনি থুঁতনির নিচে ডান হাত রেখে চেয়ারে বসা,পাশের একটি টেবিলে রাখা টেলিফোন,ওপাশ থেকে আসা রিং টোনের শব্দ ওনার মোটেও ভাল লাগেনি। ফোনবেলটি ৪ বার বাজার পর রিসিভার হাতে নিয়ে কানের কাছে রাখলেন। শিষ্টাচার দেখাতে গিয়ে বললেন, হ্যালো…
ওপাশ থেকে যার কণ্ঠ শুনতে পেলেন তার কণ্ঠ শুনার জন্য তিনি হয়তো মোটেও প্রস্তুত ছিলেননা। ওপাশ থেকে যে শব্দ গুলো এডভোকেট সিরাজুল হকের কানে এলো তা হল, “খন্দকার মোশতাক আহমেদ বলছি”।
নামটি শুনেই যেন হক সাহেবের মাথায় বাজ পড়ল!

তবু বললেন,”বলুন”।
ওপাশ থেকে জবরদখলী খন্দকার মোশতাক আহমেদ বলছিল, “আপনি নিশ্চয়ই ইতিমধ্যে জেনেছেন যে, শেখ মুজিবকে হত্যা করা হয়েছে। আমি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। খুব শিগগিরই জাতীয় সংসদের সভা ডাকা হবে। আপনাকে আমার মন্ত্রী সভায় অংশ নেয়ার জন্যে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।”

ইতিহাসের জঘন্যতম চরিত্র খন্দকার মোশতাক আহমেদের এ প্রস্তাব তিনি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করলেন। শুধু তাই নয়,সিংহের মত কণ্ঠ উঁচু করে শুনালেন বাংলাদেশের রক্তিম ইতিহাসের প্রতিবাদ মাখানো ঝাঁঝালো কিছু কথা। তিনি বললেন,
“আপনি খুনি,রাষ্ট্রপতি হওয়ার এবং সভা ডাকার কোনো এখতিয়ার আপনার নেই। আপনি অবৈধ রাষ্ট্রপতি, আপনার সংসদ মানিনা,আপনাকে প্রেসিডেন্ট মানিনা।”

এ বলেই টেলিফোনের রিসিভারটি রেখে দিলেন। ওদিকে খন্দকার মোশতাক আহমেদ স্বপ্নভঙ্গের আশংকায় রিসিভার হাতে রেখেই মনের অজান্তে উচ্চারণ করলেন, “আ হা”। কপালে চিন্তার ভাজ, মুখে আফসোসের গোঙানিসহ রিসিভার রাখলেন।

এডভোকেট সিরাজুল হক এবং খন্দকার মোশতাক আহমেদের এ কথোপকথন মাত্র ১মিনিট ৩০ সেকেন্ড! বা তারও কম সময়। অথচ বাংলাদেশের ইতিহাসে এ কথাগুলোর মূল্য অনেক বেশি। এডভোকেট সিরাজুল হকের মত কিছু মানুষ এখনও আছে।আছে বলেই দেশ চলে, আমরা চলি।

আসুন সত্য ও সুন্দরের পক্ষে কথা বলি।

লেখক: এস এম শাহনূর
কবি ও আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক