চলতি বছর পাঠ্যবইয়ে খোদ জাতীয় সংগীতকেই ভুলভাবে ছাপানো হয়েছে

চলতি বছর পাঠ্যবইয়ে খোদ জাতীয় সংগীতকেই ভুলভাবে ছাপানো হয়েছে

এতদিন তথ্য বিকৃতি, বানান ভুলসহ নানা রকম অসংগতি থাকলেও এ বছর নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে খোদ জাতীয় সংগীতকেই ভুলভাবে ছাপানো হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের বিভিন্ন বইয়ে ভুল বর্ণনা দেয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও ইতিহাসের। এমনকি সংবিধানে এক তথ্য থাকলেও পাঠ্যবইয়ে দেয়া হয়েছে ভিন্ন তথ্য। ফলে সংশ্লিষ্টদের যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা। ভুল সংশোধনে শ্রেণী-ভিত্তিক জাতীয় কাউন্সিল কমিটি বা কমিশনের পরামর্শ তাদের।

কয়েক বছর ধরেই বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিতে পারছে সরকার। তাতে একদিকে যেমন খুশি শিক্ষার্থীরা, তেমনি সরকারের প্রশংসায় অভিভাবকরাও। কিন্তু সেই অভিভাকরাই এখন তাদের সন্তানদের জন্য ছুটছেন আদালতে।

ভুলে ভরা পাঠ্যবই। চলতি শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ থেকে একাদশ শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে ধরা পড়েছে ভুলের বহর। অভিভাভকদের অভিযোগ, ৬টি শ্রেণির ১০টি পাঠ্য বইয়ে প্রায় পাঁচশোরও বেশি ভুল রয়েছে। এই ভুল দিয়েই শেষ হতে চলছে চলতি শিক্ষাবর্ষ।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ কে এম শাহনাওয়াজ বলেন, কমিটি গঠন করে যদি সুনির্দিষ্ট প্রমিত বানান রীতি আমরা মান্য করি তাহলে এর থেকে প্রতিকার সম্ভব।

এদিকে, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিশ্বজিৎ ঘোষের মতে, যারা গ্রন্থ সম্পাদনা, রচনা বা সংকলনে আছেন, তারা ঠিকমত দায়িত্ব পালন করছেন না অথবা তারা যে নির্দেশনা দিচ্ছেন সেগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। এছাড়া, যারা এর দায়িত্বে আছেন তাদের উপযুক্ত সম্মানী প্রদান করলে কাজের প্রতি  মনোযোগী হবেন বলেও তিনি জানান।

 

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের বইগুলো সংশোধনে সুনির্দ্দিষ্ট কমিশন গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সাথে মান সম্মত পাঠ্যবই নিশ্চিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধিরও পরামর্শ তাদের।

অযাচিত ভুল ঠেকাতে সর্বোপরি ভাষার প্রতি ভালোবাসা ও দেশপ্রেম জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।