চলমান সংঘাত নিয়ে আজ আলোচনায় বসছে রাশিয়া-ইউক্রেন

চলমান সংঘাত নিয়ে আজ আলোচনায় বসছে রাশিয়া-ইউক্রেন

চলমান সংঘাত নিয়ে আজ আলোচনায় বসছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। সোমবার স্থানীয় সময় সকালে এ বৈঠকে বসবে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধি দল। তবে কোন পর্যায়ে আলোচনা হবে, সে বিষয় কিছু জানা যায়নি। রুশ বার্তা সংস্থা তাস-এর বরাতে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে ইউক্রেন-বেলারুস সীমান্তে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদলের মধ্যে কিছু সময়ের মধ্যেই একটি বৈঠক শুরু হবে।

যেখানে আলোচনা হবে রাশিয়ানরা সেখানে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাশিয়ান প্রতিনিধি দলের প্রধান ভ্লাদিমির মেডিনস্কি।

রোববার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এ কথা জানান তিনি।

আলোচনাটি ইউক্রেন-বেলারুশিয়ান সীমান্তের গোমেল অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা বেল্টা।

এর আগে ইউক্রেনের সরকার জানায়, তারা বেলারুস সীমান্তে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেজান্ডার লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সময় তিনি সীমান্ত এলাকায় প্রিয়াপাত নদীর কাছে রাশিয়ানদের সঙ্গে কোনো শর্ত ছাড়াই দেখা করতে রাজী হয়েছেন।

কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই রুশ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাতে রাজি রয়েছে ইউক্রেন। বেলারুশ-ইউক্রেন সীমান্তে স্থানীয় সময় সোমবার সকালে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে ইউক্রেনের উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভজেনি ইয়েনিন।

লুকাশেঙ্কো জেলেনস্কিকে কথা দিয়েছেন—ইউক্রেনের প্রতিনিধিদলের সেখানে যাওয়া, কথা বলা, এবং ফিরে না আসা পর্যন্ত রুশ যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও ক্ষেপণাস্ত্রের কোনো ব্যবহার হবে না।

এদিকে রাশিয়ার হামলায় গত চারদিনে ইউক্রেনের ৩৫২ বেসামরিক নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

রোববার (২৭ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রুশ হামলায় এখন পর্যন্ত ১৪ শিশু মারা গেছে। এ ছাড়া ১১৬ শিশুসহ এক হাজার ৬৮৪ জন আহত হয়েছেন।

ইউক্রেনের ডেপুটি প্রতিরক্ষামন্ত্রী হান্না মালিয়া দাবি করেছেন, যুদ্ধে এখন পর্যন্ত রাশিয়ার ৪ হাজার ৩০০ সেনা নিহত হয়েছেন। সেই সঙ্গে রাশিয়ার ২৭টি বিমান ও ২৬টি হেলিকপ্টার ধ্বংস করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন গত বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সামরিক অভিযান ঘোষণার কয়েক মিনিট পরেই ইউক্রেনে বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে রুশ সেনারা। এরপর থেকে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ চলছে। যুদ্ধের পঞ্চম দিনেও ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও খারকিভসহ আশপাশের এলাকায় লড়াই চলছে।