চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৮৫০ পরিবারের মাঝে বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ বিতরণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৮৫০ পরিবারের মাঝে বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ বিতরণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আরও ৮৫০ পরিবারের মাঝে দেয়া হয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ সামগ্রী। বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের নির্দেশে সারা দেশে ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর ও নাচোল উপজেলায় ৮৫০ পরিবারের মাঝে এইসব ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

প্রথমে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রহনপুর এবি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ৩৫০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হুমায়ূন রেজা, রহনপুর পৌরসভার মেয়র মতিউর রহমান মতি খান, কালের কণ্ঠ শুভ সংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি আহসান হাবিব, বাংলাদেশ প্রতিদিন ও নিউজ টোয়েন্টিয়োর টিভি’র প্রতিনিধি মোঃ রফিকুল আলমসহ আরও অনেকে।

পরে রহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে ১’শ পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয় এবং শেষে নাচোল মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে ৪’শ পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন দুঃস্থ ও অসহায় নারী-পুরুষ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদরে আগামিকাল শুক্রবার আরও ৮’শ পরিবারের মাঝে ত্রাণ দেয়া হবে এবং এনিয়ে ৩দিনে জেলায় ৩ হাজার পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হলো বলে জানান কালের কণ্ঠ শুভ সংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান। এদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হুমায়ূন রেজা এবং পৌর মেয়র মতিউর রহমান মতি খান বলেন, করোনা সংকট চলাকালে গোমস্তাপুরে বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ কার্যক্রমে এলাকার মানুষ কিছুটা উপকৃত হবে। এজন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।

রহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ত্রাণ নিতে আসা প্রতীবন্ধী নারী সেলিনা খাতুন বলেন, প্রতীবন্ধীদের অনেকেই অবহেলার চোখে দেখে। কিন্তু বসুন্ধরা গ্রুপ যে মানুষের কল্যাণে প্রতীবন্ধীদের ত্রাণ সহায়তা করছে এজন্য তিনি আল্লাহর কাছে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন তিনি।

আরেক উপকারভোগী বৃদ্ধা আসমা বেগম জানালেন, করোনা সংকটে তার পরিবার খুব অসহায় হয়ে পড়েছে। এসময় বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ তাদের কাছে অনেক কিছু। অন্যদিকে বিধবা জেসমিন বলেন, তিনি অন্যের বাড়িতে কাজ করে ৫ জন সদস্যর পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে রয়েছেন। তাই বসুন্ধরার এই ত্রাণ পেয়ে তার পরিবার কিছুটা হলেও উপকৃত হলো।

এছাড়াও ত্রাণ নিতে আসা কৃষি শ্রমিক মহিবুল বলেন, করোনা সংকট এবং যান্ত্রিক যুগে কৃষি শ্রমিকরা খুব কষ্টে আছে। তাই এই ত্রাণ পেয়ে তিনি খুব খুশি হয়েছেন। অন্যদিকে মাটিকাটা শ্রমিক রফিকুল বলেন, করোনা সংকটে তিনি কাজ হারিয়ে খুব অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। কিন্তু এই ত্রাণ পেয়ে অন্তত ৭দিন তাকে কোন চিন্তা করতে হবে না। আর তার পরিবারের সহায়তায় বসুন্ধরা গ্রুপের এগিয়ে আসায় সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

এদিকে রাহেলা নামে এক বৃদ্ধা জানান, দীর্ঘদিন ধরে করোনা সংকট চললেও প্রথম প্রথম খাদ্য সহায়তা তারা পেয়েছিলেন। কিন্তু অনেকদিন ধরে কোন সহায়তা পাননি তার মতো অনেকেই। আর আজ বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ পেয়ে এলাকার মানুষ আনন্দিত হয়েছেন বলেও মতামত ব্যক্ত করেন তিনি