ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় মামাকে হত্যা, যাবজ্জীবন ৬

ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় মামাকে হত্যা, যাবজ্জীবন ৬

বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক অনুপ কুমার এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় খালাস পেয়েছেন ১৫ জন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের মিন্টু আলী (৩৫), মো. রানা (২১), মো. পানা (২৫), আরিফ হোসেন (২৫) ও শরিফ হোসেন (২২) এবং নাটোরের লালপুর উপজেলার মনিহারপুর গ্রামের আরজেদ আলী ওরফে ভোলা (৪৭)। আদালত তাদের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করেছেন। জরিমানার অর্থ না দিলে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে আসামিদের।

জানা গেছে, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি আরজেদ আলীর ছেলে সুমন এলাকার নবম শ্রেণি পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন। ২০১৯ সালের শেষের দিকে সুমন সেনাসদস্য হিসেবে নিয়োগ পেলে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। যেকোনো মূল্যে তিনি ওই ছাত্রীকে বিয়ে করবেন বলে ঘোষণা দেন। সেনাবাহিনীর চাকরিতে প্রশিক্ষণে যাওয়ার আগে ২০২০ সালের ১৪ জানুয়ারি তিনি তার বন্ধুদের নিয়ে ওই ছাত্রীর পথ আটকে আবার প্রেমের প্রস্তাব দেন। ওই ছাত্রী বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানায়। তখন ছাত্রীর নানা আজিজুর রহমান সুমনের বাবা-মায়ের কাছে বিচার দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সুমন। সেদিন বিকেলে পার্শ্ববর্তী বাঘা উপজেলার সুলতানপুর মোড়ে আজিজুলের ছেলে নাজমুল হোসেন ও আজিজুলের নাতি তারিকুল ইসলাম তুষারকে পেয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেন সুমনসহ অন্য আসামিরা।

পরে নাজমুলকে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ নিয়ে বাঘা থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা আজিজুল। নিহত নাজমুলের চাচা আবু তালেব বলেন, প্রকাশ্যে নাজমুলকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছেন আসামিরা। কিন্তু রায়ে অনেকেই বেকসুর খালাস পেয়েছেন। আমরা এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক বাবু এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, রায় ঘোষণার সময় ২৩ জন আসামিই আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। সাজাপ্রাপ্ত ছয়জনকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বাদীপক্ষ।

তিনি আরও জানান, প্রথমে এই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন ২৩ জন। পুলিশ তদন্ত করে আরও চারজনকে শনাক্ত করে। পরে ২৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এর মধ্যে প্রধান আসামি মো. সুমনসহ চারজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। তাই তাদের বিচার চলছে শিশু আদালতে। অন্য ২৩ জনের বিচার শেষ হলো রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে।