জাতীয় পার্টিতে চমক আসছে: বিদিশা

জাতীয় পার্টিতে চমক আসছে: বিদিশা

জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা নতুন বছরে দলটিতে ‘একের পর এক চমক’র ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি নিজেকে জাতীয় পার্টি ‘পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার’ নেত্রী বলে দাবি করছেন। তিনি বলেন, নতুন বছরে চমকের পর চমক আসছে। এ জন্য দেশের জনগণকে অপেক্ষা করতেও বলেন তিনি।

শনিবার (১ জানুয়ারি) জাতীয় পার্টির ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বারিধারায় এরশাদের বাড়ি প্রেসিডেন্ট পার্কে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে এসব কথা তুলে ধরেন তিনি। ওই সভায় তার পাশে ছেলে এরিক এরশাদও ছিলেন।

বিদিশা বলেন, “আর মাত্র কয়েক মাস পরেই এরিকের বয়স ২১ হবে। অপেক্ষা করুন। চমকের পর চমক আসবে সামনে। ভুলে গেলে চলবে না, এরশাদ সাহেব সেনা পরিবারের একজন সদস্য ছিলেন। তিনি ছিলেন সেনাবাহিনীর প্রধান। এরিক আজ একা না। এরিকের সাথে সেনাবাহিনীর চৌকস অফিসার এবং এরশাদকে যারা ভালোবাসে, তারা আছে। ”

২ বছর আগে এরশাদ মৃত্যুবরণ করেন। এরপর দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন ছোট ভাই জি এম কাদের। এরশাদের মৃত্যুর পর ছেলে এরিকের কাছে থাকতে প্রেসিডেন্ট পার্কে ওঠেন বিদিশা, যার বিরোধিতা করেন জি এম কাদের। গত জুলাইয়ে এরশাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে জাতীয় পার্টি পুনর্গঠনের ঘোষণা দেন বিদিশা।

তিনি আরও বলেন, ‘২০২২-এ নতুনরূপে সাজবে জাতীয় পার্টি। গুটি গুটি পায়ে আমি ও এরিক জাতীয় পার্টির পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার পথচলা শুরু করেছিলাম। এখন অনেক লোক আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।

এরশাদের ছেলে রাহগীর আল মাহি সাদ (সাদ এরশাদ) ও এরিকই আগামী দিনে লাঙ্গলের (দলীয় প্রতীক) ধারক ও বাহক হবে দাবি করে বিদিশা বলেন, ‌‘পিতার চেয়ারে শুধু ছেলেদেরই শোভা পায়। একমাত্র ছেলেরাই পারে বাবার মান রক্ষা করতে, অন্য কেউ নয়। ’

দেশের ৩০ জেলায় কমিটি হয়েছে জানিয়ে বিদিশা বলেন, ‘৬৪ জেলায় কমিটি হওয়ার পরে ঢাকায় বড় কর্মসূচি দেওয়া হবে। এ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পার্টির তৃণমূল তাদের নেতা নির্বাচন করবে। পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় অনেকে আসবে আবার চলে যাবে। কিন্তু পার্টি তার নিজ গতিতেই চলবে। আমার দরজা সবার জন্য খোলা আছে। ’

জি এম কাদেরের কঠোর সমালোনা করে বিদিশা বলেন, ‘আপনারা জানেন রওশন এরশাদ খুব অসুস্থ। তিনি ব্যাংককে আছেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এরই মধ্যে জাতীয় পার্টির যে চেয়ারম্যান আছেন, তিনি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পোস্টার থেকে রওশন এরশাদের ছবি মুছে ফেলেছেন। এই অমানবিক কাজটা আসলে তাকেই মানায়। ’