জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা

জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা
জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ফুমিও কিশিদা। সোমবার (৪ অক্টোবর) তিনি দেশটির ১০০তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন বলে খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এর আগে গত সপ্তাহে ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির হয়ে জাপানের পার্লামেন্টের উভয় হাইসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন ফুমিও কিশিদা। তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম আজই ঘোষণা করা হতে পারে।

কিশিদা চীনের প্রভাব মোকাবিলা ও জাপানের নাগরিকদের আয়ের বৈষম্য কমিয়ে আনতে জাতীয় সম্পদ পুনর্বণ্টনের অঙ্গীকার করেছেন।

জাপানের করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ব্যর্থতার পর জনপ্রিয়তায় ধস নামায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন সুগা। এক বছরের মতো ক্ষমতায় থেকেছেন তিনি।

কিশিদা বলেন, মানুষের প্রতিক্রিয়া তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনবেন এবং ক্ষমতাসীন উদার গণতান্ত্রিক পার্টির (এলডিপি) পুনর্জন্মে আস্থা অর্জনে কাজ করবেন। আমি জানতে পেরেছি, দলের অনেকের কথায় সরকার কান দেওয়া হয়নি। তাদের কথা শোনা হয়নি। যে কারণে তারা সরকারের ওপর আস্থা রাখতে পারেনি।

সুগার উত্তরসূরি হিসেবে তাকে মহামারির মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও অর্থনৈতিক অচলাবস্থা থেকে জাপানকে পুনরুদ্ধার করতে হবে। কিন্তু তার কাজের প্রথম সারিতে থাকছে, নভেম্বরের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া। ওই নির্বাচনে এলডিপি বিজয়ী হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এতে কিশিদার প্রধানমন্ত্রীত্ব আরও পাকাপোক্ত হবে।

টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ইউ উচিয়ামা বলেন, আসন্ন নির্বাচনে কিশিদাকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হবে–কীভাবে তিনি ভোটারদের কাছে পৌঁছাবেন। তবে পররাষ্ট্রনীতির দিক থেকে তিনি সুগা ও অ্যাবের নেওয়া পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তাকে জাপান-মার্কিন জোট এবং অবাধ ও উন্মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর জোর দিতে হবে। এছাড়া চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় কোয়াডের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করায় মনোযোগ দিতে হবে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক র‌্যান্ড কর্পোরেশনের জাপানিজ নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ জেফ্রি হরনুং বলেন, নিরাপত্তার, কূটনীতির জায়গা থেকে আমার মনে হচ্ছে, জাপানের অনেক পরিবর্তন দেখতে যাচ্ছি আমরা।