জুটির পঞ্চাশ রানে উজ্জ্বল মুশফিক-লিটন

জুটির পঞ্চাশ রানে উজ্জ্বল মুশফিক-লিটন

সংক্ষিপ্ত স্কোর: প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ- ৭৮/৫ (২৬ ওভার)

দুঃসময়ে দলের হাল ধরে স্কোরবোর্ড সচল রেখেছেন মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস। দুই ডানহাতি ব্যাটসম্যানের জুটির পঞ্চাশ রানে শুরুর ধাক্কা সামলে মাথা তুলে লড়াই করছে বাংলাদেশ। ২৪ রানে ৫ উইকেটে হারানোর পর পথ চলা শুরু লিটন ও মুশফিকের। ২৬তম ওভারে প্রবীন জয়াবিক্রমাকে পুল করে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে জুটির পঞ্চাশ রান পূর্ণ করেন লিটন। ১১২ বলে ৫৩ রান করেছেন তারা।

শ্রীলঙ্কার আগুনে বোলিংয়ে প্রথম সেশনে পথহারা বাংলাদেশ

আগুনে বোলিংয়ে শ্রীলঙ্কার দুই পেসার এলোমেলো করে দিয়েছেন বাংলাদেশকে। রাজিথা ও আশিথার সম্মিলিত আক্রমণে প্রথম ঘণ্টাতেই ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দুই ওপেনার জয় ও তামিম শূন্য রানে ফেরেন সাজঘরে। সাকিব গোল্ডেন ডাক। মুমিনুল আশার আলো দেখালেও দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি। শান্তও ফিরেছেন সাজঘরে।

বাংলাদেশের পঞ্চাশ

আশিথা ফার্নান্দোর শর্ট বল পুল করে স্কয়ার লেগ দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠালেন লিটন। ছন্দে থাকা লিটনের ব্যাট থেকে আসা আত্মবিশ্বাসী শটে বাংলাদেশ পৌঁছে যায় দলীয় ফিফটিতে। ১৮.২ ওভারে দলীয় পঞ্চাশ ছুঁয়েছে বাংলাদেশ।

প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টায় লিটন-মুশফিক 

৫ উইকেট হারিয়ে প্রথম ঘণ্টায় ব্যাকফুটে বাংলাদেশ

রাজিথার বলটা জয়ের খেলতে হতো ফ্রন্টফুটে এসে। ভুল করলেন। আলগা শটে উইকেটে বিলিয়ে এলেন। তাকে অনুসরণ করে তালগোল পাকানো শট খেললেন তামিম ইকবাল, নাজমুল হোসেন শান্ত। দারুণ শুরুর পরও টিকতে পারেননি মুমিনুল হক। সাকিব ২২ গজে আসলেন আর গেলেন।

ঢাকা টেস্টের প্রথম ঘণ্টায় নতুন বলে স্রেফ এলোমেলো বাংলাদেশ। ২৪ রানেই নেই বাংলাদেশের ৫ উইকেট। জয়, তামিম ও সাকিব খুলতে পারেননি রানের খাতা। বাকিদুজন দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি।

দুই পেসার রাজিথা ও আশিথার বোলিং ছিল নিয়ন্ত্রিত। তাদের আগ্রাসী বোলিংয়ে স্রেফ এলোমেলো বাংলাদেশ। গতি আহামরি না হলেও বৈচিত্রে দুজনই অনন্য। ব্যাটসম্যানদের ভোগাচ্ছেন নিয়মিত। লিটন ও মুশফিক এখন ক্রিজে আছেন। তাদের হাত ধরে দল উদ্ধার হয় কিনা সেটাই দেখার।

সাকিবের গোল্ডেন ডাক

প্রথম বলেই সাকিব আল হাসান ফিরলেন সাজঘরে। পেসার রাজিথার বলে এলবিডব্লিউ হন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে বল ভেতরে ঢুকাচ্ছেন রাজিথা। তাতেই এলোমেলো ব্যাটসম্যানরা। সাকিবের প্যাডে আঘাত করলে আম্পায়ার আঙুলে তুলে নেন। রিভিউ নিয়ে বাঁচতে চেয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু রিভিউ তার পক্ষে আসেনি। ক্যারিয়ারে এটি তার পঞ্চম ডাক, দ্বিতীয় গোল্ডেন ডাক। ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম গোল্ডেন ডাক হয়েছিলেন। অজন্তা মেন্ডিসের বলে সেবারও এলবিডব্লিউ হয়েছিলেন।

উইকেট উপহার দিয়ে এলেন শান্ত

বিপর্যয়ে হাল ধরতে পারলেন না নাজমুল হোসেন শান্ত। উল্টো শ্রীলঙ্কাকে উইকেট উপহার দিয়ে এলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। পেসার রাজিথার ভেতরে ঢোকানো বলে এলোমেলো শট খেলে বোল্ড হন শান্ত। আউট হওয়ার আগে ২১ বলে ৮ রান করেন করেন এ ব্যাটসম্যান। নতুন ব্যাটসম্যান সাকিব আল হাসান।

মুমিনুলও সাজঘরে

দারুণ ফ্লিক শটে প্রথম বলেই পেয়েছিলেন বাউন্ডারি। পরের ওভারে আরেকটি চোখ ধাঁধানো কভার ড্রাইভ। মনে হচ্ছিল রান খরায় থাকা মুমিনুল হক পায়ের তলায় মাটি পেয়েছেন। আজ বড় কিছু করবেন। কিন্তু বেশিক্ষণ টিকলেন না বাংলাদেশের অধিনায়ক। পেসার আশিথা ফার্নান্দোর লেন্থ বল খেলা, না খেলা নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন। তাতেই সর্বনাশ। বলের মুভমেন্টের কাছে হার মানতে হয় তাকে। ব্যাটে খোঁচা লেগে বল যায় উইকেটের পেছনে। ৯ বলে ৯ রানে ফেরেন মুমিনুল। উইকেটে নতুন ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম।

এলোমেলো শটে ফিরলেন তামিম

আশিথা ফার্নান্দোর লেন্থ বল লেগ সাইডে খেলতে চেয়েছিলেন তামিম ইকবাল। কিন্তু বল-ব্যাটের টাইমিং হয়নি। ব্যাটের উপরের দিকে লেগে বল যায় পয়েন্টে। সেখানে জয়াবিক্রমা দারুণ ক্যাচ নিয়ে তামিমকে সাজঘরের পথ দেখান। দারুণ বোলিংয়ের পর নিখুঁত ফিল্ডিংয়ে তামিমকে রানের খাতা খুলতে দেয়নি শ্রীলঙ্কা। টেস্ট ক্রিকেটে এটি তামিমের দশম ডাক। প্রথম ওভারে আলগা শটে জয় বোল্ড হয়েছিলেন। এবার তামিম ফিরলেন সাজঘরে। দুই ওপেনারই ফিরেছেন শূন্য রানে।

দ্বিতীয় বলেই উইকেট হারাল বাংলাদেশ

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা একদম বাজে হলো। পেসার কাশুন রাজিথার দ্বিতীয় বলে বোল্ড ডানহাতি ব্যাটসম্যান মাহমুদুল হাসান জয়। বলে তেমন গতি ছিল না, ১২৮ কি.মি.। কিন্তু স্কিড করে ভেতরে ঢোকায় ব্যাট নামানোর সুযোগ পাননি জয়। আলগা শটে শূন্য রানে ফিরলেন এ ওপেনার। প্রথম বলটিও দারুণ করেছিলেন ডানহাতি পেসার। ইয়র্কার দিয়েছিলেন জয়কে। ঠিকঠাক মতো সেই বলটি আটকে দিলেও দ্বিতীয় বলে সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে। উইকেটে নতুন ব‌্যাটসম‌্যান নাজমুল হোসেন শান্ত।

টস

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্টে টস জিতে ব‌্যাটিং করছে বাংলাদেশ। ইনিংস উদ্বোধনে নেমেছেন তামিম ইকবাল ও মাহমুদুল হাসান জয়।  সকাল ১০টায় ম‌্যাচটি শুরু হয়। বাংলাদেশের অধিনায়ক মুমিনুল হক টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বাংলাদেশের একাদশে দুটি পরিবর্তন অনুমিতই ছিল। পেসার শরিফুল ইসলাম ও স্পিনার নাঈম হাসান প্রথম টেস্টের পর ছিটকে গেছেন। তাদের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পেয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন ও ইবাদত হোসেন।

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, মাহমুদুল হাসান জয়, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, ইবাদত হোসেন, খালেদ আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম।

শ্রীলঙ্কা একাদশ: দিমুথ করুণারত্নে, ওশাদা ফার্নান্দো, কুশল মেন্ডিস, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুউজ, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা, দিনেশ চান্দিমাল, নিরোশান ডিকাভেলা, রামেশ মেন্ডিস, প্রবীন জয়াবিক্রমা, কাশুন রাজিথা, আশিথা ফার্নান্দো।

২০১৮ এর পুনরাবৃত্তি চায় না বাংলাদেশ

সেবারও চট্টগ্রাম টেস্ট ড্র হয়েছিল। পাঁচদিন নিষ্প্রাণ লড়াইয়ের পর অমীমাংসিত থাকে দুই দলের ম্যাচ। কিন্তু ঢাকাতে পা রাখতেই পথ হারায় স্বাগতিকরা। স্পিন বান্ধব উইকেটে, নিজেদের চিরচেনা কন্ডিশনে মুখ থুবড়ে পড়ে বাংলাদেশের। ফলাফল সিরিজ হার। চার বছর পেরিয়ে আবার একই মঞ্চে দুই দল। চট্টগ্রামে দুই দল কেউ কাউকে ছাড় দেয়নি। ঢাকাতে যে উড়াবে বিজয়ের পতাকা সিরিজটা হয়ে যাবে তারই।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে কার কোথায় অবস্থান?

আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা কিছুক্ষণের মধ্যেই মাঠে নামবে। ‘টেস্ট বিশ্বকাপ’ হিসেবে পরিচিত এ লড়াইয়ে কার কোথায় অবস্থান? ৯ দলের এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান আটে। সাত ম্যাচে ১ জয় এবং ড্র ও ৫ পরাজয়ে ১৬ পয়েন্ট বাংলাদেশের। নিউ জিল্যান্ডের মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে বাংলাদেশ জিতেছিল। সেই টেস্ট জেতায় ১২ পয়েন্ট পান তারা। সর্বশেষ মুমিনুল হক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট ড্র করায় ৪ পয়েন্ট পেয়েছে। শ্রীলঙ্কার পয়েন্ট ২৮। ৫ ম্যাচে ২টি করে জয় ও পরাজয় এবং ১টি ড্র তাদের। ২৮ পয়েন্ট নিয়ে তাদের অবস্থান পাঁচে।