জ্ঞানী পাবলিক মজাও নেয় গালিও দেয়, আর শুধু লিংক খুঁজে

জ্ঞানী পাবলিক মজাও নেয় গালিও দেয়, আর শুধু লিংক খুঁজে

সালমান খান হরিন মেরে বিপদে আছে, উনার গাড়ীর চাপায় মানুষও মরেছে। মামলা চলছে একদিকে আর মুক্তি পেয়ে সিনেমা হিট হচ্ছে আরেকদিকে। তিনি আবার মোস্ট এলিজিবল ব্যাচেলর, উনার প্লে-বয় এটিচ্যুড এর ফ্যান বাংলাদেশে ভরপুর।

বন্ধুত্বের নিদর্শন সমুন্নত রেখে দুই ডিভোর্সের পরও আমীর খান আমাদের মিডিয়ায় মিস্টার পারফ্যাকশনিষ্ট, তুমুল জনপ্রিয় তিনি। শাহরুখ খান সাহেব সেই তুলনায় একটু কৌশলী, ঘরের মধ্যে দুই ধর্ম মেইনটেন করে সংসার করছেন সুখে। সঞ্জয় দত্ত তো সান্জু বাবা উপাধি নিয়ে মাথার তাজ হয়ে আছেন প্রচুর ভক্তের মনে। উনার বায়োগ্রাফিক্যাল মুভিতে গপাগপ শব্দটির মর্মার্থ দর্শকরা বুঝে খুব আনন্দিত। তাঁর ব্যক্তিগত উশৃঙ্খলতার প্রতিও সহানুভূতি রয়েছে মানুষের।

ডার্টি পিকচারের সিল্ক স্মিতার উলালা উলালা গানতো কাঁপিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। নাসিরউদ্দীন শাহ এর লাম্পট্যপূর্ণ  অভিনয়ের সাথে বিদ্যা বালানের মোটা দেহে কম কাপড় নিশ্চয়ই দেশের বিনোদনপ্রিয় মানুষকে চিপাচাপায় অনেক আনন্দ দিয়েছে। সানি লিওনের প্রকাশ্য ভক্ত বাংলাদেশে ব্যাপক, বেবী ডলটাকে ভালই লাগে। পর্নষ্টার থেকে Rambo বনে যাওয়া সিলভেস্টার স্ট্যালোন রীতিমত হ্যাবক তৈরী করেছে ইংলিশ মুভিতে, আমি নিজেও দেখেছি। শিল্পা শেঠী’র বর্তমান ঝামেলা নিয়ে বাংলাদেশের বিনোদন মিডিয়া আছে খুব উৎকন্ঠায়, প্রতিদিন আপডেট দিয়ে যাচ্ছে। ইদানীংকার মিডিয়ার জেনারেশনকে প্রায় চিনিনা,এটা আমার অজ্ঞতা। কিছু সিম্বলিক নাম উল্লেখ করলাম বুঝানোর স্বার্থে। যাদের নাম নিয়েছি তারা সবাই মারাত্মক জনপ্রিয় বাংলাদেশে। উন্মূক্ত বিশ্বায়নের সুফলে বাংলার স্যাটেলাইটে সব এখন সহজলভ্য।

ইন্টারনেট সুবিধার দৌরাত্ম্য মোটামুটি দাঁড়িয়ে পেসাপ করতে পারা বাচ্চাগুলা এখন সুপার এ্যাডাল্ট। আর গোপনে নারী বিষয়ক থিসিস করা ছেলেটা প্রচুর রক্ষনশীল। ফুলের মত পবিত্র টাইপ চরিত্র নিয়ে ভার্চূয়্যাল ওয়ার্ল্ডের পুরা মজা নিচ্ছে এমবি খরচ করে। শুধু ফেসবুকে আসলেই তারা ফেরেশতা হয়ে যায়। জীবনে কোনদিন মেয়ে দেখেনি, লুকিয়েও না। অথচ মোবাইল চেক করলে শুধু পর্ন ইস্যুতেই পুরো দেশ হয়ে যাবে জেলখানা।

সিভিল সোসাইটিতে নেগেটিভ কোন কিছু নেই। সব খারাপ লোকের বাস বিনোদন জগতে। বহুবিবাহ ডিভোর্স এটা সেটা সব এই জগতেই হয়। ঘুষ সুদ গুম ধর্ষন খুন দূর্নীতি সব কিছু মানুষ সহ্য করে, কারন নিজেরাও সেই প্রক্রিয়াগুলোয় কোন না কোন ভাবে সম্পৃক্ত। শুধু শো’বিজের আন্টিসান্টি খবরগুলোয় খুব মজা নেয়। বীরের মত মন্তব্য করতে থাকে পারভার্টেড ভদ্দরলোকেরা।

মজায় মজায় ধ্বংস হচ্ছে মনূষ্যত্ববোধ। কাউকে ভাল হওয়ার সুযোগ দেয়ার চেয়ে কন্টেন্ট লাইক শেয়ার সাবসক্রাইবারের নেশায় অন্ধ মিডিয়া নিজেদের কবর তৈরী করে ফেলেছে আরো আগেই। জ্ঞানী পাবলিক মজাও নেয় গালিও দেয়, আর শুধু লিংক খুঁজে পাগলের মত। কালো পোশাকের নীচে কালো মন থাকেনা, কেউ রেখে দেয়। এজন্য বহুদিন পর সাদা পান্জাবী পরলাম, জয় হউক সাদা রংয়ের…
ভালবাসা অবিরাম…