ঝিনাইদহে ৮ জন আসামির ফাঁসির রায় দিয়েছেন আদালত

ঝিনাইদহে ৮ জন আসামির ফাঁসির রায় দিয়েছেন আদালত

ঝিনাইদহে সেনা বাহিনীর ল্যান্স কর্পোরাল সাইফুল ইসলাম সাইফ হত্যা মামলায় ৮ আসামির ফাঁসির রায় দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নজরুল ইসলাম হাওলাদার এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় তিনজন আসামি মতিয়ার ফনে, মুক্তার ও ডালিম পলাতক রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আহাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রায় প্রকাশ করায় সন্তোষ করেছেন সদর উপজেলার বংকিরা গ্রামের নিহত সেনা সদস্য সাইফুলের পিতা হাফিজ উদ্দীন হাবু ও তার মা বুলবুলি খাতুন। তারা দ্রুত এই রায় কার্যকরের দাবি জানান।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সদর উপজেলার বংকিরা গ্রামের ফারুক হোসেন ওরফে ফারুনের ছেলে আকিমুল ইসলাম, একই উপজেলার বোড়াই গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে মিজানুর রহমান, আসাননগর গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে ফারুক হোসেন, একই গ্রামের নবীছদ্দিনের ছেলে আব্বাস উদ্দীন, আবুল কাসেম, বংকিরা গ্রামের ইয়াকুব্বার ওরফে ব্যাকার ছেলে মতিয়ার রহমান ফনে (পলাতক), চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ভুলটিয়া গ্রামের সবোদ আলীর ছেলে ডালিম (পলাতক) ও সদর উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের মোক্তার (পলাতক)। রায় ঘোষনার আগে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কারাগার থেকে আসামিদের আদালতের হাজত খানায় নেওয়া হয়।

গত ১২ নভেম্বর আদালতে যুক্তিতর্ক শেষ হয়। মামলা সুত্রে জানা জানা যায়, ২০১৮ সালে ১৮ আগস্ট রাতে ঝিনাইদহের বংকিরা পশ্চিমপাড়া এলাকার হাফিজ উদ্দীনের দুই ছেলে সাইফুল ইসলাম সাইফ (সেনা সদস্য) ও ত্রা ভাই মনিরুল ইসলাম (নৌ সদস্য) মোটরসাইকেল যোগে স্থানীয় বদরগঞ্জ বাজার থেকে ঈদের রাতে বাড়ি ফিরছিলেন।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা হাওনঘানা নামক স্থানে পৌঁছালে রাস্তার ওপর গাছ ফেলে ডাকাতরা ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। ওই সময় তারা মোটরসাইকেল থেকে নেমে চিৎকার করলে ডাকাত দলের একজন সেনা সদস্য সাইফুলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনার পরদিন নিহতের পিতা হাফিজুর রহমান হাবু অজ্ঞাতনামা আসামিদের নাম উল্লেখ করে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা করেন। মামলাটির তদন্তে পুলিশ আটজন আসামির সম্পৃক্ততার খবর জানতে পারেন।

এদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে থানায় ডাকাতিসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এ মামলায় বংকিরা গ্রামের মো. আকিমুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হলে সে জড়িতদের নাম প্রকাশ করে আদালতে জবানবন্দি প্রদান করে।

২০১৯ সালের ৩০ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঝিনাইদহ থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. মহসীন হোসেন ৮ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলায় ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে বিজ্ঞ বিচারক আজ এই রায় ঘোষণা করেন। নিহত হওয়ার সময় সেনা সদস্য সাইফুল ইসলাম সাইফ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল সেনানিবাসের মেডিকেল কোরের ল্যান্স কর্পোরাল হিসেবে চাকরিরত ছিলেন।

এদিকে এ হত্যা মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ভুলটিয়া গ্রামের সবোদ আলীর ছেলে ডালিম পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে সৌদি আরবে চলে গেছেন বলে গ্রামবাসী জানিয়েছেন।