ডেডলাইনের পরেও নিরাপদ প্রত্যাহারে তালেবানের সাথে ৯৮ দেশের চুক্তি

ডেডলাইনের পরেও নিরাপদ প্রত্যাহারে তালেবানের সাথে ৯৮ দেশের চুক্তি

আফগানিস্তান থেকে বহুজাতিক বাহিনীর প্রত্যাহারে ৩১ আগস্টের ডেডলাইনের পরেও বিদেশী নাগরিক ও বিদেশ ভ্রমণের যথাযথ ডকুমেন্ট থাকা আফগান নাগরিকদের ‘নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল’ প্রত্যাহারের জন্য তালেবানের সাথে চুক্তি করেছে ৯৮টি দেশ।

সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর যৌথভাবে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।

তালেবানের সাথে চুক্তি করা ৯৮ দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, জার্মানি ও ফ্রান্স রয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা তালেবানের কাছ থেকে নিশ্চয়তা পেয়েছি যে সব বিদেশী নাগরিক ও ভ্রমণের অনুমোদন থাকা যেকোনো আফগান নাগরিককে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার সাথে দেশ ছাড়তে ও দেশের বাইরে ভ্রমণে অনুমতি দেয়া হবে।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘আমাদের নাগরিক, দেশবাসী, বাসিন্দা, কর্মী, আমাদের সাথে কাজ করা আফগান এবং যারা ঝুঁকিতে আছেন, আফগানিস্তানের বাইরে তাদের অবাধ ভ্রমণ অব্যাহত রাখায় নিশ্চয়তা দিতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’

বিবৃতিতে আরো জানানো হয়, ‘খ্যাতনামা আফগানদের’ জন্য ভ্রমণের অনুমোদন অব্যাহত রাখা হবে।

এদিকে রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক স্যুলিভান জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে যে সকল মার্কিনি থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তারা ‘আফগানিস্তানে আটকা পড়ে থাকবেন না।’

ভবিষ্যতে যখন তারা বের হয়ে আসতে চান, তখনই যেনো তাদের বের করা আনা সম্ভব হয়, এই লক্ষ্যে ব্যবস্থাপনা চালু রাখার হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে ফ্রান্স ও ব্রিটেন একত্রে সোমবার জাতিসঙ্ঘে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে মানবিক সহায়তা চালু রাখতে নির্দিষ্ট ‘সেফ জোন’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব উত্থাপনের পরিকল্পনা করছে।

এর আগে শুক্রবার ফ্রান্স ও শনিবার ব্রিটেন আফগানিস্তান থেকে তাদের প্রত্যাহার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার জেরে আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালায় মার্কিন বাহিনী। অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রসজ্জ্বিত মার্কিন সৈন্যদের হামলায় আফগানিস্তানের তৎকালীন তালেবান সরকার পিছু হটে।

তবে একটানা দুই দশক যুদ্ধ চলে দেশটিতে।

দীর্ঘ দুই দশক আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের দখলের পর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাতারের দোহায় এক শান্তিচুক্তির মাধ্যমে দেশটি থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করতে সম্মত হয় ওয়াশিংটন। এর বিপরীতে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অংশ নিতে তালেবান সম্মত হয়।

চুক্তি অনুসারে ক্ষমতাসীন থাকা মার্কিন সমর্থনপুষ্ট আফগান সরকারের সমঝোতার জন্য তালেবান চেষ্টা করলেও দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছর মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের মধ্যে পুরো দেশের নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালাতে শুরু করে তালেবান। মে থেকে অভিযান শুরুর পর সাড়ে তিন মাসের মাথায় ১৫ আগস্ট রাজধানী কাবুলের অধিকার নেয় তালেবান যোদ্ধারা।

সূত্র : জিও নিউজ