ঢাকায় তৈরি হচ্ছে আমেরিকান ওষুধ, গ্রেপ্তার ৭

সংগ্রহীত

ঢাকায় তৈরি হচ্ছে আমেরিকান ওষুধ, গ্রেপ্তার ৭

ঢাকায় তৈরি হচ্ছে আমেরিকা ও চীনের বিভিন্ন জীবনরক্ষাকারী ওষুধ! অনুমোদনহীন দাওয়াখানাতে তৈরি এসব ওষুধ আবার কেজি দরে কিংবা হাজার পিস ধরে বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর হাতিরপুল, রামপুরা, মালিবাগ ও ঢাকার পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জের জালকুড়ির একটি আয়ুর্বেদিক কারখানায় তৈরি হচ্ছে এসব ওষুধ।

এখানেই শেষ নয়, ভেজালকারীরা যে যার ইচ্ছামত এসব ওষুধে জেনেরিক নেইম বা ট্রেড নেইম দিয়ে দিচ্ছে। মুহূর্তেই তা হয়ে যাচ্ছে হার্টের ওষুধ, কখনো লিভারের ওষুধ, কখনো হাড়ের ওষুধ। তবে বেশিরভাগ সময়ই প্রাপ্তবয়স্কদের ওষুধ হিসেবে আমেরিকা কিংবা চীন থেকে ইমপোর্ট করা হয়েছে বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। তবে ওষুধের নিখুঁত প্যাকিং দেখে কারও বুঝার সাধ্য নেই এগুলো আসল নয়। আর তা পাওয়া যাচ্ছে রাজধানীর বিভিন্ন নামীদামী ওষুধের দোকানে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল ওষুধ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ও জেলা পুলিশের সহায়তায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের সদস্যরা হানা দেয় জালকুড়ির সেই জেনমার্ক ইউনানী কারখানায় এবং সিলগালা করে। সেখানে ভেজাল ওষুধ তৈরি বিপণনের সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো লুবনা আক্তার (২৬), আনোয়ার কাজী (২৭), রাম চন্দ্র বসাক (৬২), এসএম তাজমুল তারিক (৬৩) ও কনক কুমার শাহা (৫২), আরিফুল হক মাসুম ও শাহাদাত হোসেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি’র প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, এসব প্রতারকরা ঢাকার চকবাজার, মিটফোর্ড এলাকা থেকে বস্তা ভরা প্লাস্টিকের সাদা লাল সবুজ রঙের বোতল, সিপি, সিলিকন সংগ্রহ করে।

হাতিরপুল, নীলক্ষেত, ফকিরাপুল ও মালিবাগের বিভিন্ন কম্পিউটারের দোকান থেকে ইংরেজিতে এ্যাম্বুস করে লেখা বিভিন্ন হলোগ্রাম, মনোগ্রাম সম্বলিত ঝকঝকে রঙিন স্টিকার বা লেবেল তৈরি করে সে গুলোকে ঘরে বসে বসে প্লাস্টিকের বোতলে সেঁটে দিয়ে কলেজে পড়ুয়া মেয়েদের মাধ্যমে এসব ভেজাল ওষুধ গুলশান, বনানী, কাকরাইল, ধানমন্ডি, উত্তরা ও মিরপুরের বিভিন্ন নামীদামী এবং পরিচিত ডিস্পেন্সারিতে বিদেশি ওষুধ হিসেবে মার্কেটিং করে থাকে।

নীতিহীন কিছু চিকিৎসক উপহার ও কমিশন প্রাপ্তির লোভে অথবা অনুরোধে ঢেঁকি গিলে এসব ওষুধ রোগীদেরকে প্রেসক্রাইব করেছেন বলে গ্রেফতারকৃতরা দাবি করেছেন।

ডিবি’র উপকমিশনার মশিউর রহমান বলেন, ভেজাল এসব ওষুধ বিভিন্ন পাইকারদের একটি সিন্ডিকেট ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, কক্সবাজার ও মানিকগঞ্জসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে। এ ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে।