দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে খেলছেন সাকিব

দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে খেলছেন সাকিব
সাকিব আল হাসান-নাটকে নতুন মোড়। অনেক জলঘোলায় জানা গেলো এই অলরাউন্ডার দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাচ্ছেন। শনিবার (১২ মার্চ) মিরপুরে সাকিবের সঙ্গে বৈঠকের পর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। সংবাদমাধ্যমে কথা বলার সময় বিসিবি সভাপতির সঙ্গে সাকিবও ছিলেন।
বৃহস্পতিবার থেকে তিন ভাগে দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ দল। আজ গেছে দ্বিতীয় ভাগের ক্রিকেটাররা। আর আগামীকাল (রবিবার) যাবেন সাকিব। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়ে এই অলরাউন্ডার শুধু ওয়ানডে খেলবেন নাকি টেস্ট সিরিজও খেলবেন, সেটি এখনও নিশ্চিত নয়। পাপন বলেছেন, সাকিব যাচ্ছে (দক্ষিণ আফ্রিকায়)। ওখানে গিয়ে ও শুধু ওয়ানডে খেলবে নাকি টেস্ট সিরিজেও থাকবে, সেটা এখনও ঠিক হয়নি। তবে ও যাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকায়।
সাকিব বিশ্রাম চেয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী তার সঙ্গে কথা বলে তাকে ৫৩ দিনের বিশ্রাম দিয়েছিল বিসিবি। তবে ওই বিশ্রামের দুই দিনের মাথায় দৃশ্যপট বদলে গেলো। সাকিব যাচ্ছেন দক্ষিণ আফ্রিকায়।
আজ বেলা সাড়ে ১২টার পর মিরপুরে আসেন পাপন। কিছুক্ষণ পর সাকিব বিসিবি কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। ঘণ্টা দুয়েকের বৈঠকে ইতিবাচক খবরই বেরিয়ে এলো। দুজন মিলেই সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাওয়ার ঘোষণা দেন। সাকিব বলেছেন, পড়শু রাতে এবং আজকে কথা হয়েছে। আমরা পুরো বছরের পরিকল্পনা করতে পেরেছি। আমি তিন ফরম্যাটেই অ্যাভেলেভেল থাকবো। বোর্ড অবশ্যই সিদ্ধান্ত নেবে কোন সময় আমাকে বিশ্রাম দিতে হবে। এখন আমার  সিদ্ধান্ত আমি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাচ্ছি।
সাকিব টেস্ট খেলতে চান না, খবরটা পুরোনো। তাছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের টেস্ট থেকে তিনি আগেই ছুটি নিয়ে রেখেছিলেন। কারণ ছিল আইপিএল। কিন্তু ভারতীয় টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় যখন তিনি দল পেলেন না, তখন প্রশ্ন উঠে এখন কি তাহলে এই অলরাউন্ডার দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট খেলবেন? কিন্তু ঘটনা এমন দিকে মোড় নেয় যে টেস্ট তো দূরে থাক, সাকিব দক্ষিণ আফ্রিকাতেই যাবেন না!
ব্যক্তিগত কাজে দুবাই যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়ে যান, তিনি মানসিক ও শারীরিকভাবে অবসাদগ্রস্ত। দক্ষিণ আফ্রিকা যেতে তার অনীহা, আফগানিস্তান সিরিজে আমার মনে হয়েছে, আমি একজন প্যাসেঞ্জার। আমি যেটা হয়ে কখনোই থাকতে চাই না। খেলাটা একদমই উপভোগ করতে পারিনি, পুরো সিরিজটাই; টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ানডে। আমার মনে হয়, এমন মানসিকতা নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে খেলাটা ঠিক হবে না।
এরই প্রেক্ষিতে জলঘোলা হয় অনেক। তিনি বিশ্রাম চাওয়ায় বিসিবি তাকে ৫৩ দিনের ‘ছুটিতে’ পাঠিয়ে দেয় সব ধরনের ক্রিকেট থেকে। অথচ এই সিদ্ধান্ত দুই দিনও টিকলো না।