দলবদল মেসি-রোনালদোর

দলবদল মেসি-রোনালদোর
শেষ হতে চলেছে আরেকটি বছর। বর্তমান থেকে ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই করে নিচ্ছে ২০২১ সাল। বরাবরের মতো এ বছরও অনেক রেকর্ড ও স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন। ব্যত্যয় ঘটেনি ফুটবল বিশ্বেও। বছরজুড়ে ফুটবলের আলোচিত ঘটনাগুলোর দিকে চোখ ফেরালে শীর্ষেই থাকবে মেসি-রোনালদোর দলবদল।

গত মৌসুম তো বটেই সম্ভবত ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দলবদলের সাক্ষী হয়েছে সকার সমর্থকরা। মাস খানেকের ব্যবধানে বিশ্বসেরা দুই ফুটবলারের ঠিকানাবদল, তাও আবার চূড়ান্ত নাটকীয়তার পর। সত্যি বলতে কোনো ফুটবলপ্রেমী স্বপ্নেও হয়ত এতটা ভাবতে পারেনি।
তবে ক্রীড়াজগতের অভিধানে অসম্ভব বলতে কিছু নেই। গত আগস্টের আগেও যা ছিল কল্পনাতীত, তাই হয়েছে বাস্তব। মেসি-রোনালদো, বর্তমান ফুটবল চলচ্চিত্রের দুই সেরা শিল্পীই মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে বদলে ফেলেন নিজেদের আস্তানা।

একজন যখন নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় বার্সেলোনার সঙ্গে ২১ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে যোগ দেন অচেনা গণ্ডির পিএসজিতে, তখন আরেকজন নিজের পুরনো আধিপত্য পুনঃস্থাপন করার লক্ষ্যে এক যুগ পর স্বপ্ন নিয়ে প্রত্যাবর্তন করেন ঘরের ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা ঘরে তোলার আশায় লিওনেল মেসিকে উড়িয়ে আনেন নাসের আল খেলাইফির দল। এছাড়া আগে থেকেই দলে ছিল ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং ব্রাজিলিয়ান নেইমারের মতো তারকারা। কিন্তু বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের নিয়ে সমর্থকদের প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে উঠলেও মাঠের লড়াইয়ে সেটির আঁচ দেখা যায়নি। এক ম্যাচ জয় তো আরেক ম্যাচে হার কিংবা ড্র। গেল কয়েক মাসে এই চিত্রনাট্যেই এগিয়েছে মরিসিও পচেত্তিনোর শিষ্যরা। আর এমন ব্যর্থতার জন্য সমালোচকদের তীর বিদ্ধ করেছে কেবল মেসিকেই।

হবেই না বা কেন! বার্সেলোনার সঙ্গে দীর্ঘ পাঠ চুকিয়ে নতুন ক্লাবে থিতু হওয়ার পর খুদে ফুটবল জাদুকর মেসিকে নিয়ে স্বপ্ন বাড়ছিল প্যারিস জায়ান্টদের। কিন্তু যেন ক্যারিয়ারের সেরা দুঃসময় পার করেন মেসি। অভিষেক গোলের দেখা পেতেই অপেক্ষা করতে হয়েছিল অনেকটা সময়। লিগ ওয়ানে ১১ ম্যাচে করেছেন মাত্র একটি গোল। তবে গত মৌসুমের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে গত নভেম্বরে জিতে নিয়েছেন রেকর্ড সপ্তম ব্যালন ডি’অর।

অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার পর য়্যুভেন্তাস ঘুরে রোনালদো ফেরেন সেই পুরনো ঘরেই। যদিও ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে প্রথম দিকে গোলবন্যায় ভাসলেও মুদ্রার উল্টো পিঠও দেখে ফেলেছেন সিআর সেভেন। দলের বাজে পারফরম্যান্সের কারণে চাকরি হারান সাবেক কোচ ওলে গানার সোলশায়ার। তবে তারপরও দলের অবস্থা ফেরেনি। এদিকে, দলের বাজে অবস্থায় সমালোচনার সন্মুখীন হচ্ছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও। অনেকেই বলছেন, এ মৌসুমে ইংলিশ ক্লাবটির হয়ে ১৮ ম্যাচে ১৩ গোল করলেও রোনালদোর সেই আগের ধার আর নেই।