দীর্ঘ ৫৮ বছরেও বড়নগর ও গুলনী চা বাগানের রাস্তাটির সংস্কার নেই!

নুরুল আলম, গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি:
সিলেট গোয়াইনঘাট উপজেলার ৬ নং ফতেপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত বড়নগর চা বাগান গুলনী চা বাগান ও ফতেপুর ২য় খন্ড বড়নগর মৌজাসহ বিন্না কান্দি দক্ষিণ পাড়ার রাস্তা ১৯৬২ সালের কোন এক সময় অত্র এলাকার মানুষের চলাচলের জন্য রাস্তাটি তৈরি করা হয়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এই এলাকার রাস্তাটির আজ পর্যন্ত কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে,এই এলাকার প্রবীণদের কাছে থেকে জানা যায় রাস্তাটি ঐতিহাসিক অনেক ঘটনাবলীর সাক্ষী বহন করে। যেমন: ১৯৭১ সালে এই রাস্তা দিয়ে জাতির সূর্য সন্তানগণ দেশের জন্য মাতৃভূমির জন্য প্রাণ বাজি রেখে বঙ্গবন্ধুর ডাকে পাকিস্তানের হানাদারদের বিরুদ্ধে মহান মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন এবং এই এলাকার কৃষক শ্রমিক খেটে খাওয়া মানুষ অনেকেই জীবন দিয়েছিলেন, তাদের স্বপ্ন ছিলো আমরা যদি পাকিস্তানের হানাদারদের কাছ থেকে আমাদের জন্মভূমিকে রক্ষা করতে পারি তাহলে আমাদের মা ও মাটি হবে শোষণ মুক্ত দুর্নীতি মুক্তও আমাদের অধিকার ফিরিয়ে পাবো আমাদের সন্তানরা পাবে শিক্ষার আলো আমাদের চলাচলের রাস্তা থাকবে মসৃণ,আমরা কাদার মধ্যে গড়াগড়ি করবো না, আমাদের দেশ হবে সোনার বাংলাদেশ।
এই এলাকার প্রবীন চা শ্রমিকেরা অনেকেই জানান, আমরা পাকিস্তান আমলে যেভাবে অবহেলিত বঞ্চিত জনপদ ছিলাম ও এখন আমরা অবহেলিত জনপদ হিসেবে বসবাস করে যাচ্ছি। যখন নির্বাচন আছে এই এলাকার জনপ্রতিনিধিদের দৌড় ঝাঁপ শুরু হয় অস্বাভাবিক ভাবে এবং আল্লাহ কিংবা ভগবানকে সাক্ষী রেখে ক্বসম (শপথ) খাওয়া শুরু করেন যে আমি যদি নির্বাচনে জয়ী হই অথবা না হই তাহলে এই এলাকার রাস্তা প্রথমেই করে দেব। মানবতার ফেরিওয়ালারা সুন্দর সুন্দর বক্তৃতা দিয়ে আমাদেরকে ভোট ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করে নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে যান।
প্রতিবেদকের সাথে আরো একজন চা শ্রমিক নেতা বলেন, আমরা বাগানবাসী সিলেট চার আসনের বার বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বর্তমান মন্ত্রী জনাব ইমরান আহমেদের বাসায় গিয়েছিলাম এই রাস্তাটির জন্য বলছিলাম আমরা কি মানুষ নই আমরা আর কত কষ্ট করবো তিনি বললেন এই রাস্তাটির আর কত বরাদ্দ দেব?? তখন আমরা নিরুপায় হয়ে চলে আসলাম।

ফতেপুর ২য় খণ্ডের অনেক প্রবীণরা জানান, স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর হলেও আমাদের এলাকার জনজীবন অবহেলিত বঞ্চিত বিপর্যস্ত, সমস্ত বাংলাদেশ প্রত্যন্ত অঞ্চলের উন্নয়ন হলেও আমাদের এলাকা আগের মতোই রয়েছে।
পাঁচ মৌজা রাস্তা উন্নয়ন গণ ঐক্য পরিষদের
সদ্যস্য সচিব দুলাল আহমেদ বলেন, আমরা ইউনিয়ন পরিষদ উপজেলা পরিষদ পর্যন্ত আমরা রাস্তার জন্য শত শত বার আবেদন করেও কোন সুফল পাই নাই।
এখন আমরা পাঁচ মৌজার যুব সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে নিবেদন করেছেন দয়া করে আমাদের অবহেলিত বঞ্চিত বিপর্যস্ত জনগণের পাশে দাঁড়ান এবং এই এলাকার কৃষক শ্রমিক খেটে খাওয়া মানুষের কষ্ট দুর করুন।