দুই প্রার্থীর মুখোমুখি মিছিলে হাতহাতি, ওসিসহ ৭ পুলিশ আহত

দুই প্রার্থীর মুখোমুখি মিছিলে হাতহাতি, ওসিসহ ৭ পুলিশ আহত

ভোটের দিন যতই এগিয়ে আসছে ততই উত্তেজিত হচ্ছে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের নির্বাচনী পরিস্থিতি। এরই ধারাবাহিকতায় দুই পক্ষের মুখোমুখি মিছিলে হাতহাতি দেখা দিলে তাতে বাধা দেয় পুলিশ। এসময় ধস্তাধস্তিতে ওসিসহ ৭ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।

বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রামপুর ইউনিয়নের বামনি বাজারে এ ঘটনা ঘটেছে।

৭ পুলিশ সদস্য ছাড়াও উভয়পক্ষের আরও ৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে মেয়র কাদের মির্জার ছেলে তাশিকও রয়েছেন।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মো. সাজ্জাদ রোমন, এসআই মো. আবদুল আউয়াল সুমন, মো. আবদুল মোমেন, কনস্টেবল মো. আলমগীর হোসেন, মো. তানভীর আহাম্মেদ, উথোয়াই চিং রোয়াজা ও বিধান দেবনাথ।

তাদেরকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, বুধবার দুপুরে বসুরহাট একটি কুলখানি অনুষ্ঠানে আবদুল কাদের মির্জার হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন রামপুর ইউপির সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আনছার উল্যা। এ ঘটনার প্রতিবাদে রাতে বামনি বাজারে ঝাড়ু মিছিল করেন কাদের মির্জার প্রতিপক্ষ প্রার্থী ভাগ্নে সিরাজিস সালেকিন রিমনের সমর্থক ও স্থানীয়রা।

পরে কাদের মির্জার ছেলে মির্জা মাসরুর কাদের তাশিকের নেতৃত্বে তাদের প্রার্থী ইকবাল বাহার চৌধুরী সমর্থকরা পাল্টা মিছিল বের করে। মিছিলটি স্কুল গেইটে আসলে উভয়পক্ষ মুখোমুখি হলে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং হাতাহাতি শুরু হয়। এসময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে ৭ পুলিশসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, উভয়পক্ষের পাল্টাপাল্টি মিছিলকে কেন্দ্র করে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হবার আশঙ্কায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। এসময় মিছিলকারীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়।

পরে ঘটনাস্থলে ম্যাজিস্ট্রেট, র‌্যাব, ডিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ১০০-১৫০ জনকে আসামি করে পুলিশ বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে।

উল্লেখ, আগামি ৭ ফেব্রুয়ারি কোম্পানীগঞ্জের ৮টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল থাকায় কোনো পক্ষকেই নৌকা প্রতীক দেওয়া হয়নি।