দেশে স্থানীয়ভাবে ছড়াচ্ছে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট, নতুন করে আরও শনাক্ত ১৩

সংগ্রহীত

দেশে স্থানীয়ভাবে ছড়াচ্ছে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট, নতুন করে আরও শনাক্ত ১৩

বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়ানোর প্রমাণ মিলেছে। দেশে অধিক সংক্রমিত বিভিন্ন জেলার বাসিন্দাদের নমুনা পরীক্ষা ও আক্রান্তদের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

দেশে নতুন করে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে শনাক্ত ১৩ জনের মধ্যে ৭ জনই চাঁপাইনবাবগঞ্জের। এই ১৩ জনের মধ্যে ৫ জন সম্প্রতি ভারত সফর করেন। বাকি ৮ জন সে দেশে না গিয়েও এ ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হয়েছেন।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিন সাংবাদিকদের জানান, সম্প্রতি ভারতে যাননি এমন সাত জনের শরীরেও করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। সুতরাং এটি নিশ্চিত যে, স্থানীয়দের মধ্যে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়াতে শুরু করেছে।

এ সংক্রান্ত তথ্য গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডেটায় (জিআইএসএআইডি) শেয়ার করেছে আইইডিসিআর।

যে ১৩ জন ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে সাত জনই চাঁপাইনবাবগঞ্জের। গত ৮ মে ভারত থেকে আসা দুই জনের শরীরে প্রথম করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রেরিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এ তথ্য জানানো হয় যে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের যে ৭ জনের দেহে এ ধরনটি শনাক্ত হয়েছে, তাদের ভারত ভ্রমণের ইতিহাস নেই বলে জানা গেছে। গত ৮ মে দেশে দু’জনের শরীরে ভারতীয় ধরন শনাক্ত হয়। যারা উভয়ই ভারত থেকে দেশে ফেরেন।

এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত ২৩ জনের দেহে নতুন এ ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশে এ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নাইজেরিয়ার ভ্যারিয়েন্টের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

সময় সংবাদকে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহিদ নজরুল চৌধুরী জানান, কড়া লকডাউনের মধ্যেও চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনাভাইরাস শনাক্তের মাত্রা বেড়েই চলেছে। করোনা পরিস্থিতির অবনতির জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জে দেয়া বিশেষ লকডাউনে সাধারণ মানুষ সাড়া দিয়েছেন। এতে করে এ বিশেষ লকডাউন সফলভাবে সম্পন্ন করলে জেলায় করোনা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।

মহামারি করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে কাবু বিশ্ববাসী। যত দিন যাচ্ছে তত ভয়ংকর হয়ে উঠছে প্রাণঘাতী এ ভাইরাস। প্রতিদিন বেড়েই চলছে মৃতের সংখ্যা, আক্রান্তও হচ্ছে লাখ লাখ মানুষ। মহামারি এ ভাইরাসের নতুন ভারতীয় ধরন মানুষের মনে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। করোনার টিকা আবিষ্কার হলেও এখনো কাটেনি আতঙ্ক। এরই মধ্যে বিশ্বে করোনায় মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩৫ লাখ ৩৭ হাজার এবং আক্রান্ত হয়েছেন ১৭ কোটি ১ লাখেরও বেশি মানুষ।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, শনিবার (২৯ মে) সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে মারা গেছেন আরও ১১ হাজার ৮৯৭ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখ ২ হাজার ৬৬৯ জন। এ নিয়ে বিশ্বে এখন পর্যন্ত মোট করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৩৫ লাখ ৩৭ হাজার ৮১ জনের এবং আক্রান্ত হয়েছেন ১৭ কোটি ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৪৫ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৫ কোটি ২০লাখ ৯৬ হাজার ৫৩১ জন।

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, বি.১.৬১৭ নামের এই ভ্যারিয়েন্টটি গত বছর প্রথম ভারতে শনাক্ত হয়। ইতোমধ্যে ৫০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ‘ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন’ হিসেবে ঘোষিত করোনার এই ধরনটি।

এটি ‘ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন’ হিসেবে ঘোষিত করোনার চতুর্থ ধরন। এর আগের তিনটিও বাংলাদেশে শনাক্ত হয়েছে। সেগুলো হলো— করোনার যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলের ধরন।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১৮টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড-১৯।