নারায়ণগঞ্জের সেই কিশোরীর অবস্থা আশঙ্কাজনক

নারায়ণগঞ্জের সেই কিশোরীর অবস্থা আশঙ্কাজনক

রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পরিবারের স্বজনরা জানিয়েছেন।

গুরুতর আহত ওই কিশোরীর বড় বোন রূপা বাদী হয়ে বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন। এদিকে ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক রয়েছে।

তবে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফখরুদ্দিন ভূঁইয়া সময় নিউজকে বলেন, ঘটনার ব্যাপারে তদন্তসহ আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

প্রতিবেশীরা জানান, বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের কেওঢালা বাগদোবাড়িয়া এলাকার রশিদ মিয়ার তিন তলা বাড়ির তৃতীয় তলায় একটি রুম ভাড়া নিয়ে প্রায় এক বছর যাবত বসবাস করছেন হবিগঞ্জের রূপা ও তার বোন। তিনি ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলায় বাড়ির মালিক রশিদ মিয়ার সুতার কুনিং কারখানায় কাজ করেন। বাড়ির নিচ তলায় রয়েছে একই মালিকের একটি মশার কয়েল তৈরির কারখানা। তৃতীয় তলায় রূপা ছাড়াও আরো চারটি ভাড়াটে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। এ বাড়ির ছাদ থেকেই ফেলে দেয়া হয় ওই কিশোরীকে।

সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ওই বাড়ির ভাড়াটে এক দম্পতি ছাড়া অন্য ভাড়াটেদের ঘরে তালা ঝুলছে। অন্যদিকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সন্ত্রাসীদের ভয়ে এ ব্যাপারে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

রশিদ মিয়ার বাড়ির এক ভাড়াটে দম্পতি না প্রকাশ না করার শর্তে সময় নিউজকে জানান, রূপার ছোট বোন ওই কিশোরী গত ১৪ অক্টোবর হবিগঞ্জের বাড়ি থেকে এই বাসায় বেড়াতে আসে। তবে বাড়ির গেট বরাবর সামনের রাস্তার উল্টো দিকে মুদি দোকানদার হাসান মিয়ার ছেলে অপুর সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এদিকে বড় বোন রূপার পাশের রুমের ভাড়াটে অনাবিল পরিবহনের গাড়িচালক বখাটে যুবক রুবেলও তাকে উত্ত্যক্ত করতো এবং বিভিন্ন সময়ে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছে।

এদিকে গত ৩১ অক্টোবর (শনিবার) দিনগত রাত ২টায় মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে প্রেমিক অপু তার সঙ্গে দেখা করতে আসে। লুবনা গোপনে ঘর থেকে বের হয়ে অপুর সাথে তিন তলার সিঁড়ি কোঠায় দাঁড়িয়ে কথা বলতে থাকে। পাশের ঘরের ভাড়াটে বখাটে যুবক রুবেল তাকে ঘর থেকে বের হয়ে প্রেমিক অপুর সাথে কথা বলার এ ঘটনা দেখে সেখানে গিয়ে উপস্থিত হয়। এ সময় ওই কিশোরীকে জিম্মি করে তার প্রেমিক অপুকে একটি রুমে নিয়ে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেয়। পরে রুবেল জোর করে তাকে ছাদে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।

এ সময় দুইজনের মধ্যে ধস্তাধস্তিও হয়। ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে রুবেল ওই কিশোরীকে ধাক্কা দিয়ে ছাদ থেকে নিচে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আহত কিশোরীর কান্নার শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। খবর পেয়ে লুবনার বড় বোন রূপাসহ প্রতিবেশীরা এসে গুরুতর অবস্থায় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করায়। তার হাত, পা এবং বুকের পাঁজরের একটি হাড় ভেঙে গেছে বলে প্রতিবেশী ওই দম্পতি জানায়।

এ ঘটনায় আহত লুবনার বড় বোন রূপা রোববার বন্দর থানায় বাদী হয়ে রুবেল, অপু এবং অপুর বাবা মুদি দোকানদার হাসান মিয়াকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

মামলায় বাদী অভিযোগ করেন, বলহাটে যুবক রুবেল ও অপুসহ কয়েকজন মিলে তার নাবালিকা বোনের মুখ চেপে ও হাত বেঁধে জোর করে ছাদে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। পরে ব্যর্থ হয়ে তারা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধাক্কা দিয়ে ছাদ থেকে নিচে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

স্থানীয় এক বাসিন্দা সময় নিউজকে জানান, রুবেল এলাকার চিহ্নিত বখাটে যুবক। ইতিপূর্বে সে পাশের মহল্লায় ভাড়া থাকতো। সেখানেও এমন বেশ কয়েকটি অনৈতিক ও অসামাজিক কাজের অভিযোগে এলাকাবাসী তাকে বিতাড়িত করে। পরে রশিদ মিয়ার বাড়ির তিন তলায় একটি রুম ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে থাকে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশের অতরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) টি এস মোশাররফ হোসেন সময় নিউজকে জানান, বাদির অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা হচ্ছে। আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জেলা পুলিশের অপরাধ শাখার এই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, কেউ যাতে হয়রানি না হয় সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আমরা ন্যায়সঙ্গতভাবে তদন্ত করব। ঘটনার সাথে যারাই জড়িত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এখানে আসামি সংখ্যা বাড়তেও পারে আবার কমতেও পারে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কে কে অপরাধী সে বিষয়টি এখন নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে ভুক্তভোগী পরিবার যাতে ন্যায়বিচার পায় তার জন্য যা যা করণীয় আমরা করবো।

তিনি আরো বলেন, মেয়েটি যাতে সুচিকিৎসা পায় সে ব্যাপারেও আমরা দেখভাল করছি। হাসপাতালে গিয়ে মেয়েটিকে দেখতে যাওয়াসহ তার পরিবারের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে আমি তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি। হাসপাতালের চিকিৎসকের সঙ্গে আমি কথা বলার চেষ্টা করছি।