নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে হিসেব কঠিন হয়ে গেল ভারতের

টসটা গুরুত্বপূর্ণই প্রমাণিত শেষ পর্যন্ত। দুবাইয়ের উইকেটে টসে জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে বাজিমাত নিউজিল্যান্ডের। তবে উইকেটের আলোচনা টেনে নিউজিল্যান্ডের দুর্দান্ত বোলিংকে আড়াল করার কোনো মানে হয় না। অসাধারণ বোলিং করেছেন কিউই বোলাররা। ট্রেন্ট বোল্ট তো ছিলেন অসাধারণ। টিম সাউদি, মিচেল স্যান্টনার, ইশ সোধি কাকে ছেড়ে কার কথা বলা যায়! ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা শুরু থেকে হাঁসফাঁস করেছেন। লোকেশ রাহুলের সঙ্গী হয়ে আজ মাঠে নামা ঈশান কিষান প্রথম শিকার। এরপর একে একে রোহিত শর্মা, লোকেশ রাহুল, বিরাট কোহলিরা শামিল ছিলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। তবে উইকেট হারানোর চেয়েও দৃষ্টিকটু ছিল আইপিএল খেলে অভিজ্ঞ ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিংয়ের ধরন। ভাবায় যায় পাওয়ার প্লে’র পর টানা ৭১ বল কোনো বাউন্ডারি পাননি ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। এতটা নেতিবাচক ব্যাটিং টি-টোয়েন্টিতে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে শেষ কবে দেখা গেছে, এটা গবেষণার বিষয় হতে পারে। রাহুল ১৬ বল খেলে ১৮ রান করে ফেরেন সাউদির বলে ড্যারেল মিচেলের হাতে ক্যাচ দিয়ে। কিষানকে ফেরান বোল্ট, সেই ক্যাচও নিয়েছেন ড্যারেল মিচেল।

৭২ রানের জুটি গড়েন উইলিয়ামসন–মিচেল
রোহিত শর্মাকে ফেরান সোধি। কিউই লেগ স্পিনারের ফাঁদে পা দেন বিরাট কোহলিও। তিনি বোল্টের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। ভারতীয় অধিনায়ক যখন ফেরেন তখন ১১তম ওভারে ভারতের স্কোর পঞ্চাশও পার হয়নি—আউট হয়ে ফিরেছেন দলের শীর্ষ প্রায় সব ব্যাটসম্যানই। এরপরেও ঋষভ পন্ত আশা হয়ে ছিলেন, হার্দিক পান্ডিয়াও হাত খুলতে পারেন। কিন্তু তারা আজ কিছুই করতে পারেননি, রীতিমতো ধুঁকেছেন। পন্ত ১২ রান করতে খেলেছেন ১৯ বল। তাঁর অস্বস্তির সমাপ্তি ঘটান অ্যাডাম মিলনে, বোল্ড করে। পান্ডিয়া ২৪ বলে ২৩ করে আউট হন বোল্টের বলে, মার্টিন গাপটিলের ক্যাচ হয়ে। তবে ভারতের মান বাঁচিয়েছেন রবীন্দ্র জাদেজা। তিনি ১৯ বলে ২৬ রান না করলে যে কী হতো! ভারতের ইনিংস একশ পেরোতো কিনা সন্দেহ! ভারতের ইনিংসে বাউন্ডারি হয়েছেন ৮টি, ছক্কা ২টি। ৭১ বল বাউন্ডারি-শূন্য ভারতের বাউন্ডারি-খরা কাটান জাদেজাই। শেষ দিকে তাঁর ব্যাট থেকে আসা দুটি বাউন্ডারি আর একটি ছক্কাই ভারতের সংগ্রহ ১১০-এ নিয়ে যায়।

নিউজিল্যান্ডের সেরা বোলার ছিলেন বোল্টই। তিনি ৪ ওভারে ২০ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। সোধি ছিলেন আরও কৃপণ। তিনি ৪ ওভারে ২ উইকেট নিয়েছেন মাত্র ১৭ রান খরচ করে। আরেক কিউই পেসার টিম সাউদি ২৬ রান দিয়েছেন ৪ ওভারে, নিয়েছেন একটি উইকেট। একটি উইকেট নিয়েছেন অ্যাডাম মিলনে।

উইলিয়ামসন–মিচেল জয়টা তুলে নিলেন অনায়াসেই

ভারতীয় বোলারদের মধ্য বরুণ চক্রবর্তী ভালোই বোলিং করেছেন। ৪ ওভারে দিয়েছেন ২৩। কিন্তু সেটি দলের জন্য যথেষ্ট হয়নি। বুমরা ৪ ওভারে ২ উইকেট নিয়েছেন ১৯ রান দিয়ে। রবীন্দ্র জাদেজা ছিলেন খরচে, তিনি ২ ওভারে দিয়েছেন ২৩। মোহাম্মদ শামি আজও নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। একমাত্র ওভারে ১১ রান দেওয়ার পর তাঁকে আর আক্রমণে আনারই সাহস পাননি কোহলি। ভুবনেশ্বর কুমারের বদলে দলে আসা শার্দুল ঠাকুর ৯টি ডেলিভারিতে দিয়েছেন ১৭ রান। হার্দিক পান্ডিয়াও ছিলেন খরচে, ২ ওভারে তিনি দিয়েছেন ১৭।

টানা দুই হারে ভারতের সেমিফাইনালে খেলাটা কার্যত কঠিনই হয়ে গেল। কোনো কিছুই এখন আর তাদের হাতে নেই। এর পরে স্কটল্যান্ড, আফগানিস্তান ও নামিবিয়ার বিপক্ষে তিনটি ম্যাচ ভারতের। সে তিনটি ম্যাচ জিতলেও ভারতকে তাকিয়ে থাকতে হবে অনেক হিসাব-নিকাশের দিকে। ‘যদি’, ‘কিন্তু’র সমীকরণ না মিললে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল অধরাই থাকবে ভারতের।