পরমাণু চুক্তির বিষয়ে আলোচনায় প্রস্তুত ইরান : রইসি

Ebrahim Raisi, Iran

পরমাণু চুক্তির বিষয়ে আলোচনায় প্রস্তুত ইরান : রইসি

ইরানের সাইয়েদ প্রেসিডেন্ট ইবরাহিম রইসি বলেছেন, ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি পুনর্জীবিত করতে বিশ্বশক্তির সাথে আলোচনায় প্রস্তুত রয়েছে ইরান। তবে পশ্চিমা চাপের কাছে তার দেশ নত হবে না।

শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রথম সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন তিনি।

রইসি বলেন, ‘পশ্চিমা ও মার্কিনিরা আলোচনার সাথে সাথে চাপ সৃষ্টি করে। আমি ইতোমধ্যেই ঘোষণা করেছি আমাদের সরকারের অ্যাজেন্ডা নিয়েই আলোচনা চালাবো তবে কোনো চাপের জন্য নয়।’

ইবরাহিম রইসি বলেন, ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে দর কষাকষির সুযোগ নিতে চাচ্ছে তেহরান।

তিনি বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য নির্ভর আলোচনা করতে চাচ্ছি যাতে করে ইরানের জনগণের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হয়।’

ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, শুধু আলোচনার খাতিরেই আলোচনা বা দর কষাকষির খাতিরেই দর কষাকষি নয়, নির্দিষ্ট অ্যাজেন্ডার ভিত্তিতেই আলোচনা করতে হবে।

রইসি বলেন, ‘এই আলোচনায় আমরা নির্মম নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে দিতে চাই। বিশাল ইরানি জনগণের স্বার্থ আমরা ত্যাগ করতে পারি না।’

এর আগে গত ৬ এপ্রিল থেকে নিয়মিত ব্যবধানে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় ইরানের সাথে ২০১৫ স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা শুরু করে চুক্তির অংশীদার দেশগুলো। মাঝে জুনে ইরানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কারণে আলোচনা স্থগিত করা হয়।

এদিকে আলোচনা আবার শুরু করার জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান করেছে ফ্রান্স ও জার্মানি। গতমাসে ইরানের ২০ শতাংশের বেশি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধকরণের উদ্যোগ নেয়ার বিষয়ে জাতিসঙ্ঘের পরমাণু সংস্থার প্রতিবেদনের পর ফ্রান্স, জার্মানি ও ব্রিটেন তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলো।

ইরান অবশ্য দাবি করছে, দেশটির পরমাণু কার্যক্রম চিকিৎসাসহ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

২০১৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যস্থতায় ভিয়েনায় ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স ও জার্মানি পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষর করে। জয়েন্ট কম্প্রেহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন বা সংক্ষেপে জেসিপিওএ নামে পরিচিত এই চুক্তির অধীনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। এর বিনিময়ে ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করতে সম্মত হয়।

তবে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালে চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নিয়ে ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দেন। যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে ইরান চুক্তি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে সীমিত পরমাণু কর্মসূচি জোরদার করে।

বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও তিনি জানিয়েছেন, ইরানকে আগে তার পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরে আসতে হবে। অপরদিকে ইরান আগে দেশটির ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি করছে।

সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড